শহীদ জায়া ও মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারি শফি’র মৃত্যুতে বিভিন্ন সংগঠনের শোক

শহীদ জায়া ও মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারি শফির মৃত্যুতে উদীচীর শোক

সোমবার ২০ডিসেম্বর বিকেল চারটায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর স্বামী ও ভাই শহীদ হন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

এক শোকবার্তায় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ড. সফি উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদ কজামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের অবদান এবং পরবর্তি সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনে তাঁর অবদান অসামান্য। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

উদীচীর নেতৃবৃন্দ তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজানানএ বংশোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী এর মৃত্যুতে গণফোরামের শোক প্রকাশ

শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী ২০ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪.৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজীউন)। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, উদ্যোক্তা, নারী নেত্রী ও সমাজ সংগঠক ছিলেন।

গণফোরাম সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, তার মৃত্যুতে আমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, একজন সমাজসেবক, দেশপ্রেমী মানবদরদী নির্লোভ সমাজ সংস্কারক হারালাম। শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফীর মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপুরণীয় ক্ষতি। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

 

শহীদ জায়া মুশতারী শফীর প্রয়াণে বাসদ (মার্কসবাদী)’র শোক প্রকাশ

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী ফখরুদ্দিন কবির আতিক এক বিবৃতিতে শহীদ জায়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দসৈনিক ও সাহিত্যিক মুশতারী শফীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ আজ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুশতারী শফীর মৃত্যু হয়। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রয়াণের পর ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর স্বামী মোহাম্মদ শফী এবং ছোট ভাই এহসান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মম হত্যার শিকার হন। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ লিখেছেন। ‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী’, ‘চিঠি’, ‘জাহানারা ইমামকে’, ‘স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন’ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। ষাটের দশক থেকে তিনি নারী আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তিনি স্বীকৃতিস্বরূপ রোকেয়া পদক, বাংলা একাডেমি ফেলা, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

বেগম মুশতারী শফী দীর্ঘসময় ধরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে প্রগতিশীল চেতনা বিস্তারে আমৃত্যু তৎপর ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন সত্যিকারের জনদরদী দেশপ্রেমিক হারালো।”

বিবৃতিতে তিনি শহীদ জায়া মুশতারী শফীর অপূরিত আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক শক্তিসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

শেয়ার করুন :