প্রেমের কোন বয়স নেই

নিউজ ডেস্ক: কাসান্দ্রা ক্রেমার (২৬)। টগবগে যৌবনা এক যুবতী। উদ্ভট এক প্রেমে জড়িয়েছেন তিনি। বিয়ে করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তার চেয়ে ৪২ বছরের বড় জনি ওয়ারনিস্কিকে, যার বয়স ৬৯ বছর। জনি ওয়ারনিস্কির সন্তানদের চেয়েও বয়সে ছোট কাসান্দ্রা ক্রেমার। যখন জনি ওয়ারনিস্কির সঙ্গে ক্রেমার চলাফেরা করেন, তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা মনে করেন তারা পিতা-কন্যা। অর্থাৎ ক্রেমারের পিতা জনি ওয়ারনিস্কি। তা সত্ত্বেও তারা প্রেমে মজেছেন।
এখন বিয়ের পরিকল্পনা করছেন। শুধু তা-ই নয়। তারা বিয়ের পর সন্তান নেয়ার পরিকল্পনাও করছেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের একটি অনলাইন ট্যাবলয়েড পত্রিকা। তাতে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যে সাত বছর আগে সাক্ষাত এই দুই অসম বয়সী বন্ধুর। সেখানে এক নৈশকালীন ক্যাফেতে ওয়েট্রেস হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন ক্রেমার। তার সঙ্গে প্রেম করতে গেলে তখনকার দুই সন্তানের জনক জনি ওয়ারনিস্কির জন্য এক উদ্ভট ব্যাপার হয়ে যাবে। কারণ, ক্রেমারের চেয়ে তার বয়স অনেক বেশি। অন্যদিকে ক্রেমার ছিলেন অনেকটা এগিয়ে। তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে মজা করে বলছিলেন, এরই মধ্যে তার বয়ফ্রেন্ড হয়ে গেছেন জনি ওয়ারনিস্কি। ওই ক্যাফে থেকে জনি ওয়ারনিস্কি চলে যাওয়ার আগেই ক্রেমার তার কাছে স্বীকার করেন, তাকে তিনি ভালবেসে ফেলেছেন।

এরপর দুই মাস পর্যন্ত ওই ক্যাফেতে যাওয়া বন্ধ করে দেন জনি ওয়ারনিস্কি। আস্তে আস্তে বিষয়টি ভুলে যেতে চেষ্টা করলেন। তিনি এক বান্ধবী এবং তার এক বন্ধুর সঙ্গে লাঞ্চ করতে বেরুলেন একদিন। কিন্তু তার ওই বান্ধবীর সঙ্গী তাকে উদ্বুদ্ধ করলেন যে, তার ওই ক্যাফেতে অবশ্যই ফেরা উচিত। তিনি তাই করলেন। ফলে ওই ক্যাফেতেই জনি ওয়ারনিস্কি এবং ক্রেমারের প্রথম দিককার ডেটিং চলতে থাকে। এই যুগল আস্তে আস্তে অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠলেন। তাদের এই সম্পর্ককে মেনে নিলেন পরিবারের সদস্যরাও।

ক্রেমার বলেন, জনি এসেই গান গাইতেন। সবাইর মন কেড়ে নিতেন। তার কণ্ঠ ছিল চমৎকার। সত্যিকার বলছি, তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। সব সহকর্মীদের বলেছিলাম তিনি আমার বয়ফ্রেন্ড। তিনি যখন ক্যাফে থেকে চলে যাওয়ার জন্য দরজায় পা বাড়ালেন, আমি তার হাত চেপে ধরলাম। বললা, আমি মনে হচ্ছে আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি। জবাবে তিনি বললেন, ধন্যবাদ। এরপর দু’মাস পর্যন্ত আর আমাদের ক্যাফেতে যাননি জনি ওয়ারনিস্কি। কিন্তু প্রতি রাতে তাকে আমি আক্ষরিকভাবেই স্বপ্নে দেখতে থাকি এবং তাকে নিয়ে ভাবি। এক্ষেত্রে একজন মানসিকভাবে বিশেষজ্ঞ এমন একজন আমাদের ভালবাসা জোড়া লাগালেন। আমাদের বয়সের পার্থক্য ৪২ বছর। কিন্তু জনি ওয়ারনিস্কি এখনও একজন টিনেজারের মতো আচরণ করেন।

বয়সের ব্যবধান নিয়ে অন্য যুগলরা যে সমস্যায় পড়েন, এই যুগলের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। জনি ওয়ারনিস্কি বলেন, তার সন্তানরা এখনও তার হবুবধুর চেয়ে বেশি বয়সী। তাদের একজনের বয়স ৩৩ বছর। অন্যজনের ৩০। পিতার এই সম্পর্কে বাধা দিলে তিনি আঘাত পাবেন এ বিষয়টিতে তার সন্তানরা সচেতন। তবে লোকজন তাদেরকে একসঙ্গে দেখে চোখ উল্টায়। ভাবেন, পিতা-কন্যা। এর জবাবে কৌতুক করেন জনি ওয়ারনিস্কি। বলেন, আমি ওইসব মানুষকে বলি, হ্যাঁ আমি পিতা। ও কন্যা। আমি তাকে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ভালবাসি। এরপরই ক্রেমারের ঠোঁটের ওপর চুমু দিই। ক্রেমার বলেন, এতে আমি বিব্রত হই না। আমি বলি, না, তিনি আমার পিতা নন।

শেয়ার করুন :