নারী উদ্যোক্তা দিবসের শুভেচ্ছা

নুসরাত জাহান-

“এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যানকর
অর্ধেক তার গড়িয়েছে নারী অর্ধেক তার নর”
জাতীয় কবির এই উক্তি আজ সকল নারীর কাছে মানসিক হাতিয়ারের মত..সত্যি কথা..এই লাইন দুটো লিখার সময়টাতেও গালের লোম সাড়া জানায়..
আমার উদ্যোক্তা জীবন বেশি সময়ের না..মাত্র ৬ মাস..
এই ৬ মাসে অন্তত ৬০ জন মানুষের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছি আমার কাজ নিয়ে..
কিন্তু একটা সময়ে ঠিকই শুনতে হয়
কি করছো পড়াশুনো শেষ করে
ছবি আঁকা ভালো না, আল্লাহকে স্মরণ করো
তোমার এত কষ্টের কি দরকার..
হাজবেন্ড এর কি টাকা কম, খামাকা কেন কর এসব..
এসব বাদ দিয়ে চাকরিতে ঢুকো..
জ্বি প্রতি নিয়ত আমি, আমরা শুনি এরকম নানান রকমের অনুৎসাহের কথা..কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ..
আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিবারের সাপোর্ট ছিল সবসময়..
কথায় আছে
“যার বিয়ে তার খবর নাই
পাড়া পরশির ঘুম নাই”

বিষয়টা আসলেই সত্যি কিন্তু এই সত্যিকে মিথ্যা করতে সাহায্য করেছে নাসিমা আক্তার নিশা আপুর লাগানো গাছের চারা “উই”..
যা আজ বট বৃক্ষের আকার ধারন করেছে..মহীরুহের ন্যায় বেড়ে চলছে.. শাখা প্রশাখা বেড়ে চলছে অবিরাম। আর পাতার মত উদ্যোক্তা রা এর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে..আর খুব যত্নে আগলে রাখা মানুষ হিসেবে যাকে চিনি তিনি প্রিয় রাজীব আহমেদ স্যার।

৬ মাসের উদ্যোক্তা জীবনে নিজের প্রাপ্তিটুকু বলতে চাই যা না বললেই নয়, নিজেকে তুলে ধরতে শিখেছি লাখো মানুষের সামনে, লেখার দক্ষতা, বর্ননা করার দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছি
একাডেমিক জীবনের জ্ঞান প্রয়োগ করতে পেরেছি।
একান্ত সাধনা করে শূন্য হাতেই সাহস নিয়ে এগিয়েছি যা আজ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

উই এর মত বিশাল প্ল্যাটফর্মে কম করে হলেও ৩শ এর অধিক মানুষের কাছে পরিচিত হতে পেরেছি..
পেয়েছি অর্ধশত ক্রেতার ভালোবাসা, অর্জন করেছি আস্থা..
সেই সাথে DSCSC এর মত জায়গাকেও সাজাতে পেরেছি নিজের পেইন্টিং দিয়ে।

এখন শুধু ধরে রাখার পালা..
” স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা যেমন কঠিন”
তেমনি উদ্যোগ শুরু করার থেকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাটা আরো বেশি কঠিন..সকলের সাথে মিলেমিশে আগানোর আনন্দটা পেতে চাই আজীবন..
শেষ করার আগে নজরুলের আরেকটা উক্তি মনে পরে গেল..
“সেদিন সুদূর নয়-
যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে
গাহিবে নারীর ও জয়।”

শেয়ার করুন :