থাইল্যান্ডে বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছেড়ে পালালেন এমপিরা

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : থাইল্যান্ডে মঙ্গলবার সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। সরকারবিরোধী ও সরকারপন্থিদের বিক্ষোভে অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছে। পার্লামেন্ট চত্বরে চলা বিক্ষোভের মুখে এমপিরা নৌকা দিয়ে পালিয়েছেন। এদিন পার্লামেন্টে রাজার ক্ষমতা খর্বের প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করা যায় কি না সে সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ হয়েছে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভের পর গতকালও রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভ হয়েছে। খবর ব্যাংকক পোস্ট ও রয়টার্সের।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন নিয়ে যখন এমপিরা বিতর্ক করছিলেন তখন বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টমুখী পদযাত্রা শুরু করেন। পার্লামেন্টের কাছে কঠোর ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পুলিশ। কিন্তু সেই বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করতেই সেখানে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা স্মোক বোমা এবং রঙভর্তি ব্যাগ দাঙ্গা পুলিশের দিকে ছুড়তে থাকে। জবাবে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এতেও ব্যর্থ হয়ে তারা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে চোখমুখ জ্বালাপোড়া করতে থাকে শিক্ষার্থীদের। তাদেরকে অনেক স্থানে পানি দিয়ে মুখ ও চোখ ধৌত করতে দেখা যায়। কাঁদানে গ্যাসে আহত অন্তত পাঁচ জনকে হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে। আবার কেউ কেউ বন্দুকের গুলিতে আহত হয়েছে।

তবে পুলিশ গুলি বা রাবার বুলেট ছোড়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিক্ষোভের মুখে এমপিরা পার্লামেন্ট থেকে পালিয়ে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, এমপিরা নৌকায় করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়াও সরকারপন্থিদের সঙ্গেও সংঘর্ষ হতে দেখা গেছে। এই সময় পুলিশকে কোনো হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি।

বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার পার্লামেন্টের অধিবেশন বসে। এ সময় রাজার ক্ষমতা হ্রাস নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সাতটি বিকল্প নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাব পাস হয়নি। তবে দুটি প্রস্তাব পাশ হয় যেখানে বলা হয়েছে, রাজার ক্ষমতা খর্ব না করেই সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা যায়। পার্লামেন্টে এমন প্রস্তাবই যে পাশ হবে সেটা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। কারণ সেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ূথ চান-ওঁচারই দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

সরকারি দলের এমপি উইরাত রাতানাসেট বলেছেন, রাজার ক্ষমতায় আমরা স্পর্শও করব না। জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে সহিংস। গতকালও ব্যাংককের রাস্তায় বিক্ষোভে নামে গণতন্ত্রপন্থিরা।

 

শেয়ার করুন :