আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পুলিশের পক্ষ থেকে সবোর্চ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : “শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২” উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার)।

১৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ও চলাচলের সড়ক/রাস্তাসমূহ (ম্যাপসহ) সম্পর্কে ব্রিফিং প্রদানকালে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। এসময় তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কেন্দ্রিক গৃহীত বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। খবর ডিএমপি নিউজের

তিনি বলেন, ‘‘ঐতিহ্যগতভাবেই শহীদ মিনার কেন্দ্রিক যে রাস্তাগুলো থাকবে, প্রত্যেকটা রাস্তাতেই পুলিশের আলাদা চেকপোস্ট থাকবে। প্রতিটি এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে। শহীদ মিনারে যারা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসবেন তাদের সবাইকে নিরাপত্তা তল্লাশীর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েই ঢুকতে দেওয়া হবে। তল্লাশী করার জন্য আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। শহীদ মিনার কেন্দ্রিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে যেসকল এলাকা, মেস, আবাসিক হল ও গুরুত্বপরপূর্ণ স্থান রয়েছে সেগুলোতে আজ রাতের বেলা থেকে তল্লাশি শুরু হবে, যাতে কোন দুষ্কৃতিকারী সেখানে অবস্থান নিয়ে কোন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে। সোয়াটের টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা তল্লাশী করা হবে। এসবি’র থেকেও আলাদাভাবে তল্লাশী করা হবে’’।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সম্মানিত নাগরিকদের অনুরোধ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘‘করোনাকালে সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে যেসকল বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে আপনার সেসব নির্দেশনা মেনে চলবেন। দিন শেষে আপনি আপনার পরিবারের কাছেই ফিরে যাবেন। আপনার এবং আপনার পরিবারের কথা বিবেচনা করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। কোনো ব্যাগ বহন করবেন না’’।

যথাযথ নিয়ম মেনে সবাইকে শ্রদ্ধা নিবেদনের আহবান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যার যে পথ দিয়ে আসার কথা সে সেই পথ দিয়েই আসবেন। উল্টো কোন পথ দেয়ে এসে সবার জন্য বিরক্তি তৈরি করবেন না, বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না। আমরা যেন শ্রদ্ধা নিবেদনের মত করেই শ্রদ্ধা নিবেদন করি, ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকে । আমরা এখানে কোন শক্তি প্রদর্শনের জন্য আসি না, আমরা কোন সংগঠনের প্রচারের জন্য আসি না, আমরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসি। আমরা ভাষা শহীদদের অন্তর থেকে ভালবাসা জানানোর জন্যই এখানে আসি”।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, গোয়েন্দা পুলিশ, র‍্যাব ও সোয়াটের টিম থাকবে’’।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, বিপিএম(বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণ পদ রায়, বিপিএম(বার), পিপিএম(বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার, বিপিএম(বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ মুনিবুর রহমান; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোঃ আসাদুজ্জামান, বিপিএম(বার)সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ১২ টি পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এগুলো হচ্ছে- কাটাবন ক্রসিং, শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, টিএসসি ক্রসিং, দোয়েল চত্ত্বর ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং, রোমানা ক্রসিং, ফুলার রোড ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং, বকশি বাজার ক্রসিং, চাঁনখারপুল ক্রসিং।

 

প্রবেশ পথ: পলাশী মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং- শহীদ মিনার

বাহির: শহীদ মিনার – রোমানা চত্বর- দোয়েল চত্বর

প্রবেশ নিষেধ – বকশী বাজার- জগন্নাথ হল ক্রসিং সড়ক

চাঁনখারপুল – রোমানা চত্বর ক্রসিং সড়ক

টিএসসি – শিববাড়ী মোড় ক্রসিং সড়ক

উপাচার্য ভবন- ভাস্কর্য ক্রসিং সড়ক

 

পার্কিং: ভিভিআইপি, ভিআইপি ও বিদেশী কূটনীতিকবৃন্দের জন্য ঢাবির খেলার মাঠ (জিমনেশিয়াম), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনেক্স ভবন মাঠ এবং সর্বসাধারণের জন্য নীলক্ষেত, পলাশী ও ঢাকেশ্বরী সড়কসমূহ।

 

শেয়ার করুন :