বাংলাদেশে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে কোভিড বিধিনিষেধ নেই, তবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সরকার চলমান কোভিড -১৯ বিধিনিষেধ ২২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পরিস্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী  ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজ (বিশ্ববিদ্যালয় সহ) খোলা হবে। ১ তারিখ (১ মার্চ) থেকে প্রাইমারি স্কুল খুলবে। এরপর থেকে আর বিধিনিষেধ দেওয়া হবে না। তবে সবাই যাতে অবশ্যই মাস্ক পরে, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি রবিবার ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগদান করে সভাপতিত্ব করেন এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিধিনিষেধ আর বাড়বে না। তবে যে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হলে সবাইকেই মাস্ক পরতে হবে। আর সবাইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা যেন ‘রিল্যাক্স’ না হই।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে মঙ্গলবার থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলবে ১ মার্চ থেকে।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে এক কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ার একটা প্রোগ্রাম নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে সাংবাদিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। এটা নিয়ে ডিসি, এসপি, মেয়র, চেয়ারম্যান সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে, যাতে সব জায়গায় বলে দেওয়া হয়। আমাদের পর্যাপ্ত টিকা আছে। কারো এনআইডি না থাকলেও, একটা ছোট স্লিপের মাধ্যমে টিকা নিয়ে পরে লিস্টে ইনক্লুড করে দেবেন। ‘ডব্লিউএইচও বলছে আরেকটি নতুন ওয়েভ আসার সম্ভাবনা রয়েছে’, উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা ওমিক্রনের মতো এতো সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন না। সেজন্য আমাদের সবারই উচিত টিকা যেন সবাই নিয়ে নেই।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিন্তা করছে যে ১২ বছরের নিচেও কীভাবে তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন দেওয়া যায়। সেটাও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে দেওয়া হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে যেন সেভাবেই দিয়ে দেয়া হয়।

নতুন ধরন ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১০ জানুয়ারি সারাদেশে বিধিনিষেধ জারি করে সরকার, যা ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। তখন ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে, ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পওে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বিধিনিষেধের মেয়াদ ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পাশাপাশি অর্ধেক জনবলে সরকারি-বেসরকারি অফিস পরিচালনারও নির্দেশ ছিল।

এদিন ব্যাংক এবং লিজিং কোম্পানিসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ব্যাংক আমানত বীমা (সংশোধন) আইন, ২০২২’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রি পরিষদ সচিব বলেন, ‘যদি কোনো লিজিং কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় বা দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে একজন ক্লায়েন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত তহবিল থেকে তাদের জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা নিরাপত্তা অর্থ হিসেবে পাবে।’
তিনি বলেন, ক্লায়েন্টদের ব্যাংক ব্যতীত অন্য কোম্পানি বা ইনস্টিটিউটে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কারণ সরকার সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার নিরাপত্তা দেবে। ‘যদি তাদের (সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান) থেকে অর্থ উদ্ধার করা যায় তবে গ্রাহকরা তাদের অবশিষ্ট অর্থ পাবেন।’

বৈঠকে বিদ্যমান আইনে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২২’ এর খসড়ার নীতি গত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

অধিকন্তু, মন্ত্রিসভা বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং ফ্রান্সের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি’ শীর্ষক একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন অথরিটি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০৭ প্রণয়নের একটি সহ ২০০৭ সালে উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত দুটি সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা বাতিল করে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী এখন আর এই সংশোধনীর প্রয়োজন নেই বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

আরেকটি সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সাথে সম্পর্কিত, যা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কিছু হাসপাতালের দায়িত্ব বেসরকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করার জন্য নেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার করুন :