একাও আনন্দে থাকা যায়

জীবনযাপন ডেস্ক: কুড়ির কোঠায় বিয়ে, তিরিশের আগেই সন্তান…এরকম সনাতন ধারণা ভেঙে অনেকেই ‘একা’ থাকার কথা ভাবছেন। স্বামী-সংসার নিয়ে সুখে থাকার বদলে ‘হ্যাপিলি আনম্যারেড’ মন্ত্রেই তাঁরা বিশ্বাসী। বিয়ের সঙ্গে ভাল থাকার কোনও বিরোধ নেই। তবে তার মানে এই নয় যে বিয়ে না করলে, শ্বসুরবাড়ির সাহচর্য না পেলে জীবনটাই উপভোগ করতে পারবেন না! স্বপ্নের রাজপুত্তুর না হয় না-ই বা পেলেন! তা বলে কি স্বাধীন জীবন কাটাতে বাধা আছে? হ্যাঁ, সমস্যা নিশ্চয়ই আছে। একা থাকার হাজারও ঝামেলা। একা মা বা বাবা হয়ে সন্তান মানুষ করাও মুখের কথা নয়! তবুও জীবনে এটুকু চ্যালেঞ্জ নিতে বাধা কোথায়!

 

বিয়েটাই সব নয়
আজকালকার প্রজন্মের অনেকেই বিয়ের দিকে ঝুঁকছেন না, স্বেচ্ছায়। এর নানা দিক আছে নিঃসন্দেহে। কেউ হয়তো কেরিয়ারকে বিয়ের তুলনায় অনেকটা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। নিজের পেশায় চূড়ান্ত সাফল্যই এঁদের প্রায়োরিটি লিস্টের একেবারে উপরের দিকে থাকে। বিয়ে সেখানে নিতান্তই গৌণ! মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে সাফল্যের সিঁড়ি চড়তে এতটাই উদগ্রীব যে সম্পর্কে দায়বদ্ধতা দেখানোর সময় কোথায়! সত্যিই তো! আপনি একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেন। কিন্তু কাজই যেখানে আপনার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান, সেখানে তাঁকে যথেষ্ট সময় দিতে না পারা তো তাঁকে একপ্রকার প্রতারণারই মতো! তবে, শুধুই কি কেরিয়ারের জন্য সম্পর্ক, বিয়ে, প্রেম সব পিছনের সারিতে চলে যাচ্ছে? ঠিক তা নয়। অনেকেই কমিটমেন্ট ফোবিয়ায় ভোগেন। টুকটাক প্রেম বা ডেটিং একরকম। আর লিখিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অন্যরকম। সেখানে এক ছাদের তলায় সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার চেয়ে একা থাকার স্বাধীনতা ঢের ভাল! এমনটাই ভাবেন অনেকে। তাঁদের অপার স্বাধীনতায় অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করুন, তা মোটেও চান না এঁরা। ‘মধ্য-কুড়িতে বিয়ে’, ‘তিরিশের আগেই বাচ্চা’…এসব ক্লিশে ধারণাকে অনেকেই আজকাল বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখাচ্ছেন! আসলে আপনি জীবনে কী কী করতে চান, কোন কোন বিষয় আপনাকে খুশি রাখবে—এগুলো আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে। যাঁরা বিয়ে করতে চাইছেন না তাঁদের মত হল তাঁদের জীবনের প্রায়োরিটিগুলো বিয়ে করলে নিশ্চয়ই পিছনের সারিতে চলে যাবে। কেউ হয়তো ভাবলেন একা একা ওয়র্ল্ড টুরে যাবেন। আবার কারওর ইচ্ছে মাঝেমাঝে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করবেন। একা থাকলে কারওর থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই! বিয়ের পর শাশুড়ি যদি সেই ইচ্ছেগুলোয় হস্তক্ষেপ করেন, তখন ইচ্ছেগুলোকে অবদমন করার চেয়ে এই জীবনই ঢের ভাল! বিয়ে না করলে একাকিত্বে ভুগতে হবে—এমনটাও বিশ্বাস করেন না এঁদের অনেকেই। বিয়ের পরেও যদি স্বামী বা তাঁর পরিবার ইমোশনাল সাপোর্ট না দেন? উলটে যদি তাঁকেই সাপোর্ট দিতে হয়? সাংসারিক অশান্তির দৌলতে মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হলেই বা কী হবে? মোটের উপর বিয়ে মানেই যে সুকী দাম্পত্য—এমন নিশ্চয়তা নেই। তার চেয়ে বরং, নিজের জীবন নিজের মতো করে উপভোগ করতে পারাটাই অনেকের প্রায়োরিটি তালিকায় শীর্ষে।

 

প্রেমে বারণ নেই
তবে একা থাকবেন বলে কি টুকটাক প্রেম, ডেটিং বা ক্যাজ়ুয়াল ফ্লিংস নৈব নৈব চ? মোটেও না! জীবনে প্রেম তো আসতেই পারে। আর প্রেমের জোয়ারে ভেসে গেলে ‘একা’ থাকার যাবতীয় যুক্তি কোন বানের জলে ভেসে যাবে বুঝতেও পারবেন না! তবে যতদিন না সেই জোয়ার আসছে ততদিন না হয় জীবনটাকে নিজের মতো করে উপভোগ করুন। সম্পর্কের মূল্য বুঝতে গেলেও কিন্তু প্রেমে পড়া প্রয়োজন। এমনিতেও প্রেমবিহীন জীবন সম্ভব নয়। তার উপর যদি প্রেমই না করেন, তাহলে বুঝবেন কী করে কোন পুরুষ বা মহিলা আপনার সঙ্গী হিসেবে উপযুক্ত?

একা কেন থাকব?
এই সিদ্ধান্তটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একা থাকলে আপনি ‘ভাল’ থাকবেন কি না, তা আপনাকেই বুঝতে হবে। এমনিতে আজকাল যাঁরা অণু পরিবারে বড় হন, ফ্যামিলি বন্ডিংয়ের ধারণা তাঁদের অনেকর মধ্যেই অতটা প্রবল হয় না। ভাই-বোনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, শেয়ার করা, সবাই মিলে আড্ডা দেওয়া—এই বোধগুলো অতটা প্রবল না হওয়ায় এঁরা অনেকেই বাকি জীবনটাও ‘একা’ থাকতেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আবার অনেকেই কোনও সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরে সিদ্ধান্ত নেন ভবিষ্যতে আর নতুন করে প্রেমে পড়বেন না! সম্পর্কের তিক্ততা এঁদের ক্ষেত্রে নতুন করে ওই একই পথে পা না বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আবার কোনও কাছের বন্ধু বা আত্মীয়কে অসুখী বিয়ে বা সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখলেও ‘বিয়ে’ বা ‘প্রেম’-এর প্রতি আস্থা হারান অনেকে। যদিও ভবিষ্যতে যে মনে প্রেমের রং ধরবে না, এমন নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারে না। তবে, এঁদের অনেকেই মানসিকভাবে একা থাকার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন। তবে একা থাকতে হলে সবার আগে নিজের সাপোর্ট সিস্টেম দৃঢ় করা চাই। হয়তো স্বামী বা স্ত্রী পাশে না-ই থাকলেন, কিন্তু বন্ধু, প্রতিবেশি বা কাছের মানুষ যদি না থাকে, তাহলে একেবারে একা একা নিজের ভরসায় বাকি জীবন কাটানো সম্ভব নয়। তা সে প্রয়োজনেই হোক, বিপদেই হোক বা নিছক সঙ্গ দেওয়ার জন্য—ফ্রেন্ড সার্কল যাঁদের নেই, তাঁদের একা থাকার সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভাল। এখন অনেক অ্যাপার্টমেন্টেই কমিউনিটি লিভিংয়ের কনসেপ্ট জনপ্রিয় হচ্ছে। এটিও কিন্তু আপনার সাপোর্ট সিস্টেমের অঙ্গ। তবে ঠিক কোন কোন কারণে আপনি বিয়ে করতে চাইছেন না, আর একা থাকলে ভবিষ্যতে সুখী থাকতে পারবেন কিনা—এই দু’টো জিনিস বোঝা খুব জরুরি।

 

একা মানেই একাকিত্ব?
যদি কেউ স্বেচ্ছায় একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও থাকেন, তবুও কখনও কখনও তার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল তো? মাঝেমধ্যে একাকিত্বেও ভুগতে পারেন। আজকাল যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলেই অহরহ ছবি পোস্ট করছেন, সেখানে বন্ধু-বান্ধবদের বিয়ের ছবিও যে চোখ এড়িয়ে যাবে না তা স্বাভাবিক। এখন তো বিয়ের আগেও অনেকে ঘটা করে প্রি ওয়েডিং শুট ইত্যাদি করান। আবার প্রায় সব বন্ধুদেরই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে—এই ব্যাপারটা একটু হলেও মন খারাপের কারণ হতে পারে অনেকের কাছে। ভাই-বোনদের বিয়ে হয়ে গেলেও এই অনুভূতিটা জন্মাতে পারে। তবে যদি আপনি স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই একা থাকার সুবিধে-অসুবিধে দু’টো দিক যাচাই করেই নিয়েছেন! সেক্ষেত্রে বাকিদের আচরণে মন খারাপ হলেও তা সাময়িক। আসলে আমরা যতই বলি যে আমরা খুব আধুনিক হয়ে গিয়েছি, আমাদের সমাজে বিয়ে না করলে বাবা-মা ও আত্মীয়দের কাছ থেকে প্রচ্ছন্ন চাপ আসবেই! একা থাকলে এই চ্যালেঞ্জটা তো নিতেই হবে। অনেকেই এখনও একা মা বা একা মহিলাকে বাড়ি ভাড়া দিতে চান না। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিলে তার চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলাও তো আপনাকেই করতে হবে। তবে যেহেতু এখন একা মহিলার সংখ্যা অনেকগুণ বেড়েছে, তাই সমাজও অনেকটা অভ্যস্ত হচ্ছে। বাবা-মায়েরাও জানেন যে তাঁদের আশেপাশের অনেকেই হয়তো বিবাহিত হয়েও সুখী নন। আর যদি আর্থিক নিরাপত্তার দিকটা সুনিশ্চিত থাকে, তাহলে একা থাকতে অসুবিধে কোথায়! যদি আপনার ভাই বা বোনও অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তো আরওই ভাল! বাকি জীবনটাও একে অপরের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। তবে একটা বয়সের পর কি একটু হলেও একাকিত্ব বাড়ে? কম বয়সে আমাদের চারপাশে বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী থাকেন। বয়স বাড়লে ফ্রেন্ড সার্কলও দুর্বল হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে বিয়ে না করা মানেই কিন্তু ‘একা’ থাকা নয়! কিন্তু তাঁদের ফ্রেন্ড সার্কল যেন দৃঢ় থাকে। আত্মীয়স্বজন, ভাইবোনদের সঙ্গে যেন নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। তবে এধরনের ‘কম্প্যানিয়নশিপ’ তখনই সম্ভব যদি বন্ধুদের মধ্যেও দু’-একজন অবিবাহিত থাকেন। সকলে বিবাহিত হলে পারিবারিক আড্ডার মাঝে নিজেকে একটু ‘লেফট আউট’ মনে হতে পারে। তবে যাঁরা ডিভোর্সের ফলে একা হয়ে গিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে এই স্বেচ্ছায় একা হওয়ার সিদ্ধান্তকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। ডিভোর্সের জন্য সাধারণত কেউ প্রস্তুত থাকেন না। প্রথম থেকেই একজন স্থায়ী সঙ্গীকে পাওয়ার অভ্যেস থেকে বেরিয়ে আসার ধাক্কাটা তাঁদের কাছে প্রবল। একইসঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক বিদ্রুপ তো আছেই!

বিচ্ছেদের পরে একা
এটা মোটেও স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। তবে ব্রেক-আপ বা ডিভোর্সের পরে অনেকেই আর দ্বিতীয়বার বিয়ে বা নতুন সম্পর্কে জড়াতে চান না। এর পিছনে একটা কারণ অবশ্যই অতীতের সম্পর্কে তিক্ততা। একটা সম্পর্ক সফল না হলে দ্বিতীয় সম্পর্কের রাস্তা মাড়াতে চান না অনেকেই, স্বেচ্ছায়। তবে যেহেতু এধরনের সিদ্ধান্ত একেবারেই ভেবেচিন্তে, সচেতনভাবে নেওয়া নয়, তাই ব্রেক-আপ বা ডিভোর্সের পরে অনেকেই একাকিত্বে ভুগতে থাকেন। একইসঙ্গে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের নানা প্রশ্ন, কৌতূহল, গসিপ তো আছেই। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, সম্পর্কটা আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বলেই না আলাদা হয়ে গিয়েছেন! সম্পর্কের ‘ব্যাগেজ’ বয়ে বেড়ানোর তুলনায় স্বাধীন, মুক্ত জীবনযাপন অনেক বেশি কাম্য নয় কী! রোজকার ঝগড়া, কম্প্রোমাইজ় আর অন্যের ইচ্ছেয় চলার তুলনায় এই জীবন নিঃসন্দেহে ভাল। আর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই নতুন সম্পর্কে যাওয়ার তুলনায় কয়েকটা বছর একটু নিজেকে সময় দিন। একা থাকার প্রাথমিক শর্তই হল আর্থিক নিরাপত্তা। অন্তত কিছুদিন একা থাকলেও নিজের প্রায়োরিটিগুলো, ইচ্ছেগুলোকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারবেন। সম্পর্কের ভুলগুলো থেকে বুঝতে পারবেন কার সঙ্গে, কখন সম্পর্কে জড়ানো উচিত।

একা থাকার সমস্যা
‘একা’ থাকা নিয়ে আমাদের চারপাশের সমাজে বেশ কিছু স্টিগমা কিন্তু এখনও বিদ্যমান। একা নারী (সিঙ্গেল মাদার হলে তো কথাই নেই!) বাড়িভাড়া নিতে এলে তাঁর প্রতি সন্দেহজনক দৃষ্টি খুবই চেনা। আশেপাশের প্রতিবেশিদের থেকে টিকাটিপ্পনি তো রোজকার ব্যাপার। স্টার্ট আপ শুরু করতে চাইলে বা বিজ়নেস লোন চাইলেও একা মহিলাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। আর সিঙ্গল পেরেন্টদের ক্ষেত্রে (মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে) সন্তান দত্তক নেওয়ার নানা জটিলতা ও বিধিনিষেধ তো আছেই। একইসঙ্গে একা থাকলে নিরাপত্তার দিকেও আলাদা করে নজর দেওয়া জরুরি। অনেকেই হয়তো আপনার একা থাকার সুযোগ নিতে পারেন। বিশেষ করে আপনি যদি অন্য শহরে একা থাকেন, তাহলে তো আরওই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সবক্ষেত্রেই বন্ধুবান্ধব, ভাই-বোন বা আত্মীয়-পরিজনদের নেটওয়র্কটা মজবুত রাখা প্রয়োজন। নতুন নতুন বন্ধু অবশ্যই বানাবেন, কিন্তু প্রাথমিক আলাপেই জানানোর প্রয়োজন নেই যে আপনি একা থাকেন বা বিবাহবিচ্ছিন্ন! বরং, নিজের নিরাপত্তার খাতিরে হাতের কাছে লিখে রাখুন জরুরি ফোন নম্বর, স্থানীয় থানার নম্বর। স্পিড ডায়ালে সেভ করে রাখুন সবচেয়ে কাছের মানুষদের নম্বর। আর প্রয়োজনে সবকরম আইনি সহায়তাও পেতে পারেন তিনি।

 

সিঙ্গেল পেরেন্টিং
সিঙ্গেল পেরেন্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সবার আগে আর্থিক স্বাধীনতা জরুরি। সন্তানের বাবা-মা দু’জনেই থাকলে আর্থিক প্রয়োজন ও দেখভালের সময়—দু’টোই ভাগ করে নিতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে দু’টো দায়িত্বই একা মা বা বাবাকে পালন করতে হয়। আজকাল জয়েন্ট ফ্যামিলির সাপোর্ট সিস্টেম বেশিরভাগই পান না। ফলে, চাকরি না সন্তান—কোনটাকে প্রায়োরিটি দেবেন, এই সিদ্ধান্তটা কিছুটা কঠিন। একইসঙ্গে ‘গিল্ট ফিলিং’ বা অপরাধবোধেও ভোগেন অনেকে। কাজের জন্য সন্তানকে সময় না দিতে পারলে মনের মধ্যে খারাপ লাগা তৈরি হয়। এঁদের বাচ্চারা প্রায়ই বলে যে স্কুলের কোনও অনুষ্ঠানে বাকি বন্ধুদের বাবা-মা দু’জনেই আসেন, তার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন! বাচ্চাদের সিঙ্গল পেরেন্টহুডে মানিয়ে নিতে অসুবিধে হয়, তাহলে তাদের জন্যও কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিতে হতে পারে। তবে প্রথমেই তো কাউন্সেলিংয়ের কথা ভাবা হয় না। যেহেতু সন্তানের এক ও একমাত্র সাপোর্ট সিস্টেম আপনিই, তাই সন্তানের কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ান। অনেকক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পর একা সন্তানপালনের সিদ্ধান্ত নিলে সন্তান অসম্ভব সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ছোটখাটো ব্যাপারেও রেগে যায়, রিঅ্যাক্ট করে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব সন্তানকে পরিবর্তিত পরিস্তিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া শিক্ষা দিন। ওর সামনে আপনার প্রাক্তনকে নিয়ে কোনও কটূ কথা বলবেন না। বরং, সন্তানকে স্বাবলম্বী করে তুলুন, স্বাধীনচেতা করে তুলুন। দেখবেন ও আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান করছে। ছোট থেকেই ওর মধ্যে চিন্তাভাবনার উদারতা গড়ে তুলুন।

শেয়ার করুন :