মুক্তিযুদ্ধের ভূলুণ্ঠিত অঙ্গীকার ফিরিয়ে আনতে সংগ্রাম করবে গণফোরাম

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে- স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস প্রেক্ষিত “মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ভূলুণ্ঠিত” শীর্ষক আলোচনা সভায় ১০ জানুয়ারি সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গণফোরাম নেতৃবৃন্দ বলেছেন , মুক্তিযুদ্ধের ভূলুণ্ঠিত অঙ্গীকার ফিরিয়ে আনতে সংগ্রাম করবে দলটি।

আলোচনায়  সভাপতিত্ব করেন গণফোরাম সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টু। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন গণফোরাম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ সর্বজন শ্রদ্ধেয় ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমি সবসময়ই ঐক্যের পক্ষে আমি ঐক্য চাই সারাজীবন ঐক্য চেয়েছি।  ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আমার জীবনের স্মরণীয় দিন। আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে দেশে এসেছি। আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ হতে দেশ অনেক দূরে সরে গেছে। স্বপ্ন পূরণ করতে বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। আপনারা উদ্যোগ নিন আমি আপনাদের সাথে আছি। সবাইকে ধন্যবাদ।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে অনুরোধ বঙ্গবন্ধুকে আপনার দলীয় সম্পত্তি বানাবেন না, বঙ্গবন্ধুকে একটা পরিবারের নেতা বানাবেন না, দলীয় নেতা বানাবেন না। সবচেয়ে দুঃখের সহিত বলতে হয় আমাদের যে পুলিশেরা মুক্তিযুদ্ধে ১ম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো তারাই আজ নিষেধাজ্ঞা পাচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যে সামরিক বাহিনী রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সেই বাহিনীর প্রধান নিষেধাজ্ঞা পাচ্ছে এগুলো কেন হচ্ছে! কার জন্য হচ্ছে? এই যে দেখেন কোটার নামে জাতীকে বিভক্ত করা হচ্ছে। আমরা যুদ্ধ করেছি কোটার জন্য না। হ্যাঁ আপনারা মুক্তিযুদ্ধাদের সম্মাননা দেন কিন্তু ছেলে-সন্তানদের, নাতি-নাতনীদের সুবিধা নেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভক্ত করার একটি প্রক্রিয়া। তিনি আরও বলেন আমরা গণফোরাম মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে লড়াই করে যাব যেটা বর্তমান ক্ষমতাসীনরা মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ভূলুন্ঠিত অঙ্গীকার ফিরিয়ে আনতে লড়াই করবে গণফোরাম।

গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, আপনারা প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাণিজ্য করছেন, প্রতিনিয়ত অসম্মান করছেন, তাকে দলীয় করণ করছেন, পরিবার তান্ত্রিক করছেন, তাকে এমন ভাবে ছোট করা হচ্ছে যেন তিনি একটা পরিবারের লোক, একটা দলের লোক। মুজিব কোর্টকে আজ শকুনের কালো কোর্টে পরিণত করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মুজিব কোর্ট আগে পড়তাম কিন্তু এখন পড়িনা দুঃখের সহিত বলছি এটাকে একটি পণ্যে পরিণত করা হয়েছে।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিশেষ কিছু শ্রেণি বসে আছে লুণ্ঠনকারীদের পক্ষে কথা বলার জন্য। আজ সমস্ত বুদ্ধিজীবী বেচা-কেনা হয়ে গেছে। সত্যিকারের বুদ্ধিজীবীদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি গড়তে দিচ্ছে না, সিভিল সোসাইটি না থাকলে একটা রাষ্ট্র থাকে না। আপনি অপজিশন পার্টিগুলোকে দাঁড়াতে দিবেন না আপনাদের ভাষায় ১৫ই আগষ্টের মত ষড়যন্ত্রকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে আবার সিভিল সোসাইটিকেও বেচা-কেনা করে ধ্বংস করবেন। কারো কোথাও নিরাপত্তা নেই, মানবাধিকার নেই, বাক স্বাধীনতা নেই আবার আপনি বলবেন আপনি তো কথা বলছেন আরে আমরাতো মৃত্যু পরোয়ানা হাতে নিয়ে কথা বলছি, বলি, বলবো। যেকোনো সময় বিপদ হবে জানি তবুও দেশের জন্য এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে গণফোরাম কথা বলবে এবং মাঠে থাকবে।

আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট এ.কে.এম. জগলুল হায়দার আফ্রিক, এডভোকেট মোহসীন রশিদ, এডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান বীর প্রতীক, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মোঃ রওশন ইয়াজদানী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ছাত্র সম্পাদক এডভোকেট মোঃ সানজিদ রহমান শুভ।

উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ হেলাল উদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক হামিদ মিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাঠান, শ্যামল কুমার সাহা, জান্নাতুল মাওয়া, কামাল উদ্দিন সুমন, শেখ শহীদুল ইসলাম, রিয়াদ হোসেন, ইসমাইল স¤্রাট, আনোয়ার ইব্রাহীম প্রমুখ।

আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু।

শেয়ার করুন :