রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : করোনাভাইরাসের ধরন ওমিক্রনের তাণ্ডবে জর্জরিত বিশ্ব। এই ধরনকে মৃদু হিসেবে বর্ণনা করার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

ডব্লিউএইচও জানায়, করোনার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ধরনকে মৃদু বলা ঠিক নয়। যার কারণে সারা দুনিয়াতেই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

বিভিন্ন সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনার আগের ধরনগুলোর তুলনায় ওমিক্রনে লোকজনের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা অপেক্ষাকৃত কম। তবে বৃহস্পতিবার ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও’র প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে নতুন করে ১০ লাখ ৮৪ হাজার মানুষের আক্রান্ত হয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী কোভিড শনাক্তের সংখ্যা ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর আমেরিকা মহাদেশে সংক্রমণ বেড়েছে শতভাগ। আর সারা দুনিয়ায় গুরুতর আক্রান্ত রোগীদের ৯০ শতাংশেরই ভ্যাকসিন নেওয়া ছিল না।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘যদিও ওমিক্রনকে ডেল্টার তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর বলে মনে হয়, বিশেষ করে যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে। তবে এর মানে এই নয় যে, এটিকে হালকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা উচিত। আগের ধরনগুলোর মতোই ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালে যাচ্ছে এবং এতে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আসলে সংক্রমণের সুনামি এতো বিশাল ও দ্রুত যে, এটি দুনিয়াজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গ্রাস করে ফেলেছে।

বিশ্বে গত ২৪ ঘন্টায় ২৬ লাখেরও বেশি লোক করোনাক্রান্ত হয়েছে যা পূর্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খবরে বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, পুরো মহামারিকালে আক্রান্তের এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। 

‘হু’ বলছে, করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৯ জন। মারা গেছে ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১ জন। দৈনিক করোনাক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ২৬ লাখ ১৮ হাজার ১৩০ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে আট হাজার ১৬৮ জন করে। 

আক্রান্তের অধিকাংশ সংখ্যাই যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ কোটি ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ জন। এর পরই অবস্থান ভারতের। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ৫১ লাখ ৯ হাজার ২৮৬ জন। ব্রাজিলে দুই কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৭ এবং যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৮ জন।

শেয়ার করুন :