স্কুলছাত্রীকে ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে আইনজীবী গ্রেফতার

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : কুমিল্লায় ইউটিউব সেলিব্রেটি বানিয়ে অধিক টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে জাহিদ চৌধুরী নামে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে নগরীর মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ঐ আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ঐ ছাত্রীসহ তিন জনকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার আইনজীবী জাহিদ চৌধুরী নগরীর দৌলতপুর রেলগেট এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। জাহিদ চৌধুরী বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর ইত্তেফাকের

র‌্যাব জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার দরিদ্র পরিবারের ঐ স্কুলছাত্রীর (১৫) পরিবার কুমিল্লা নগরীর আশ্রাফপুর এলাকার ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। ঐ স্কুলছাত্রীর মায়ের সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে আইনজীবী জাহিদ চৌধুরী (৪১) তাদের বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। এরই মধ্যে ঐ ছাত্রীর ওপর নজর পড়ে আইনজীবীর। পরিবারের দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে স্কুলছাত্রী ও তার ভাইয়ের লেখাপড়া ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে ঐ আইনজীবী ইউটিউব সেলিব্রেটি করে অধিক টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখান এবং কয়েকটি গান ও খণ্ড নাটক রেকর্ড করে ইউটিউবে ছাড়েন।

র‌্যাব জানায়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর আইনজীবী ঐ ছাত্রীর পরিবারকে কিছু না জানিয়ে তাকে স্কুল থেকে নিয়ে নগরীর ধর্মসাগরপাড় এলাকায় ঘুরতে যান। একপর্যায়ে সেখান থেকে ঐ আইনজীবী ভিকটিমকে তার ফ্লাটের গোপন আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনা কারো কাছে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে ভিকটিম তার মাকে ঘটনা জানালে ঐ আইনজীবীর সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে। পরে তারা নগরীর বাসা ছেড়ে ভিকটিমকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ বাড়িতে চলে যান। এরপরও ঐ আইনজীবী গোপনে ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং তার মায়ের নামে ছাত্রীর কাছে নানা অপপ্রচার করে বিভিন্ন প্রলোভনে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। ফের ঐ আইনজীবীর এমন প্রলোভনে পড়ে গত ১৭ ডিসেম্বর ঐ ছাত্রী তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে। একপর্যায়ে কৌশলে তিনি ভাইবোন দুই জনকে তার ঐ গোপন আস্তানায় নিয়ে আটকে রাখেন।

র‌্যাব আরো জানায়, আস্তানায় আরেক তরুণীকে প্রাইভেট ফার্মে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিয়ে আসেন ঐ আইনজীবী। এদিন একদিকে একটি কক্ষে ঐ স্কুল ছাত্রীর ভাইকে ঐ তরুণীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন, অন্যদিকে আরেকটি কক্ষে তার বোনকে (স্কুলছাত্রী) জোরপূর্বক বেশ কয়েক বার ধর্ষণ করেন আইনজীবী। পৃথক কক্ষে ভাই ও বোনের সঙ্গে এমন অনৈতিক ঘটনার দৃশ্যও ধারণ করে রাখেন তিনি। এদিকে ঐ স্কুল ছাত্রীর মা তার মেয়ে ও ছেলে নিখোঁজের বিষয়ে র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউটিউবের মাধ্যমে টাকা উপার্জনের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়েও ইতিপূর্বে তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলেও স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় জাহিদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

রাতে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম জানান, আইনজীবী জাহিদ চৌধুরীকে গ্রেফতারের বিষয়টি জেনেছি। আইন সবার জন্য সমান। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বারের সদস্য পদ বাতিল করা হবে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী জানান, সন্ধ্যায় র‌্যাব ঐ আইনজীবীকে থানায় হস্তান্তর করেছে। বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

শেয়ার করুন :