আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় নাই বিজয়ের ৫০ বছরেও

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছরে চারদিকে দুর্নীতিবাজদের জয় জয়কার চলছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বিজয়ের আকাংখা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে- যেখানে মানুষ আইনের শাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সুযোগ পাবে। আজ বিজয়ের ৫০ বছরে এসে প্রশ্ন জাগে, জাতি কি তার ওই আশা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখতে পেয়েছে নিজেদের জীবনে?

শুক্রবার ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিরনায়তনে বাংলাদেশ নাগরিক জোট-বিএনজে আয়োজিত বাংলাদেশের সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ” কিজয়রে ৫০ বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি”-শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিজয়ের ৫০ বছরেও আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। রাজনৈতিক অশ্লীলতা, অরাজকতা অবনতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দেশের ভেতর হত্যা, গুম, ধর্ষণ, ঘুষ, অপহরণ, অর্থ-আত্মসাৎ, চিকিৎসাক্ষেত্রে। ভেঙে গেছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাও। দেশে অজস্র প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি গড়ে উঠেছে, কিন্তু শিক্ষার মান কেবলমাত্র দিন দিন নিচেই নামছে। এ পঙ্গু শিক্ষাব্যবস্থা অচিরেই জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, দু:খজনক হলেও সত্য যে, ৫০ বছর পরেও বলতে হয় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। বড় বড় অপরাধ করেও দেশের ক্ষমতাশীল মানুষ তাদের কিছুই হচ্ছে না, তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতাও, সবশেষে দেশের জনগণের নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে আশঙ্কাজনকভাবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ঘটাতে চাইলে মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে বা ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল যেকোনো দেশের সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু বাংলাদেশে যখনই কোনো দল ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করে, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা না করে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির পথ গ্রহণ করে। আবার ক্ষমতার গদিতে যখন যে রাজনৈতিক দল আরোহণ করে তখন যেন বিরোধী দলকে দমন করা হয় অন্যতম প্রধান নীতি। এখান থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বিএনজে’র চেয়ারম্যান এইচ সিদ্দিকুর রহমান খোরশেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কংগ্রেস চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, বক্তব্য রাখেন জাগপা সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, গর্জো সভাপ্রধান সৈয়দ মঈজ্জামান লিটু, এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, পিপলস্ গ্রীণ পার্টি চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ খান, বিএনজির উপদেষ্টা মুহাম্মদ হারুন আল রশিদ, এড. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদর, ভাইস চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. কামরুজ্জামান সিমু প্রমুখ।

 

শেয়ার করুন :