‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ ডকুফিল্ম এর প্রিমিয়ার শো

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা অবলম্বনে বাঁশরী প্রযোজিত ডকুফিল্ম “রাজবন্দীর জবানবন্দী” র প্রিমিয়ার শো ২২ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে দেখানো হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ, এমপি।

প্রথমেই অনুষ্ঠানে বাঁশরীর পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অতিথিগণকে ক্রেস্ট ও নজরুলের বই উপহার হিসেবে দেন বাঁশরীর সভাপতি ড ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। বাঁশরীর পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাঁশরীর সাধারণ সম্পাদক জনাব জাকীর হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী  বলেন, নজরুল হাজতে ছিলেন জেলে নয়। এইখানে নজরুল সৃষ্টিকর্তাকে নিজের বিচারক হিসাবে ধরেছেন। নজরুল এর সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভারতের স্বাধীনতার জন্য আকুতি ফুটে উঠেছে। তাঁর পেছনে সৃষ্টিকর্তা ছিলেন নীরবে ও নিবৃতে। নজরুল বলেছেন, আমার বিচার যখন তোমরা করবে এবং আমার বিপক্ষে যে বিচারক থাকবে তারতো স্বার্থ, লোভ লালসা থাকবে কিন্তু আমার পক্ষের বিচারক যে সৃষ্টিকর্তা আছেন তিনি হলেন নিঃস্বার্থ। স্বরণ করেন সেলুলইয়েড ফিতা দিয়ে ছবি তুলার কথা, কিন্তু আজকাল মানুষ সারাদিন একসাথে অনেক ছবি তুলে, তারমধ্যে যেগুলো পছন্দ হয়না সেগুলো ডিলেট করে দেয়। পরবর্তীতে বাঁশরীর  অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ডকুফিল্ম “রাজবন্দীর জবানবন্দী” নিয়ে তাঁর মূল্যবান আলোচনা করেন।

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হবে উপস্থিত ছিলেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউট –এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, কবি নাতনী জনাব খিলখিল কাজী, এবং বিশিষ্ট লেখক ও চলচ্চিত্র গবেষক জনাব অনুপম হায়াৎ।

বিশেষ অতিথির আলোচনায় জনাব মোহাম্মদ জাকীর হোসেন বলেন, বাঁশরীর এই আয়োজনের প্রশংসা করেন। আরো বলেন নজরুল সব সময় সত্যের পথে ছিলেন। স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য তিনি অনেক গান ও কবিতা রচনা করে উদ্বুদ্ধ করেন। ধূমকেতু যখন নিষিদ্ধ হয় তখন ১১বছরের বালিকা লিরার লেখাও নিষিদ্ধ করা হয়, কবি তখন লিরাকে সাধুবাদ জানান। ধূমকেতু পত্রিকার ছাপার পরে নজরুল বলেছেন আমি বেআইনি করেছি, স্বীকার করেছি কিন্তু আমি অন্যায় করিনি। তিনি বাঙ্গালী সাংবাদিকদের মধ্যে নজরুলকে ১ম হিসেবে মনে করেন। আরো বলেন নজরুল এক রাজার বিরুদ্ধেও দাড়িয়েছিলেন এবং তখন তিনি বলেছিলেন শুধু প্রজারাই হয় কেন রাজদ্রোহী, অন্যায় করেও রাজারা হয়না কেন রাজদ্রোহী। 

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাঁশরীর প্রতিষ্ঠাতা ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালে আমরা প্রথম এই ডকুফিল্মের চিন্তা করি এবং স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করি। ২০১৮ সালে নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে শেষ হয়। কিন্ত করোনা ও নানা রকম জটিলতার কারণে এতদিন আমাদের পক্ষে প্রিমিয়ার শো করা সম্ভব হয়নি, আবশেষে আজ আমরা “রাজবন্দীর জবানবন্দী” প্রিমিয়ার শো আমরা সম্পূর্ণ করলাম।

 

শেয়ার করুন :