অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বিশ্ববিদ্যালয় সিট বাতিলের অগণতান্ত্রিক নিয়ম বাতিল করতে হবে

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলে বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সিট বাতিলের নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

আবাসিক ছাত্রীদের সিট বন্টন সম্পর্কিত ও অন্যান্য শৃঙ্খলামূলক নিয়মবিধির ১৬নং পয়েন্টে বলা আছে ‘কোন ছাত্রী বিবাহিত হলে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তাঁর সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না’। এমন একটি অগণতান্ত্রিক নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার পরিপন্থী। যুগ যুগ ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। সবার জন্য উচ্চশিক্ষা হতে হবে বাধাহীন। বাংলাদেশের নারীসমাজ দীর্ঘদিন ধরে সমঅধিকার ও সমমর্যদা প্রতিষ্ঠার লড়াই করে আসছে। ঘরে বাইরে সর্বত্র যখন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি উঠছে তখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরণের নিয়ম থাকা নারীর প্রতি চরম বৈষম্যমূলক মনোভাবের পরিচায়ক।

সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে আছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’ ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরের নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।’ র্অথাৎ দখো যাচ্ছে সংবধিানরেও ধার ধারছনো বশ্বিবদ্যিালয়গুলো। গত বছরের মার্চ থেকে টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে দেখা গেল ৯ জেলায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ হয়েছে। সারাদেশের তথ্য নিলে এই সংখ্যা প্রায় ৭/৮ গুন হবে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষার সময় দেখা গেছে অনেক ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা অথবা সন্তান প্রসব করেছে। এদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ বিধান আছে যে বিশেষ ক্ষেত্রে বাবা মা চাইলে ১৮ বছরের নিচে ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে পারবে। তাহলে যে দেশে বাল্যবিবাহকে বৈধতা দেয়া আছে সেদেশে নারী সন্তানসম্ভবা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলে তার সিট থাকবে না কেন? নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক নিয়ম বাতিলের দাবি করেন। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে যে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে উঠবে তাকে কোনভাবেই দমন করা যাবে না।

শেয়ার করুন :