খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন

আকাশছোঁয়া ডেস্ক :  বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ২৪ নভেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত হয়।

গণস্বাস্থ্যের প্রধান ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে নগর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেজর হায়দার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলু, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহিদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। জেএসডির সভাপতি আ.স.ম. রব শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে না পারায় তাঁর পাঠানো লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জেএসডির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, জুম লিংক এর মাধ্যমে সাংবাদিক সম্মলনে যুক্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আহমেদ কামাল ও আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

আরো উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, নাগরিক ঐক্যের নেতা মমিনুল ইসলাম। সাংবাদিক সম্মেলন পরিচালনা করেন গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

সভাপতির ভাষণে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতকাল বিকেলে এভার কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে যা দেখেছি তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। খালেদা জিয়া কতোদিন বাঁচবেন তা বলা যাবে না। তবে তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। উনাকে হত্যা করা হচ্ছে। এই হত্যার দায় আইনমন্ত্রীর এবং হুকুমের আসামী হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান চার জন বিচারপতির কেউই মুখ খুলছেন না। মৃত্যুপথযাত্রী খালেদা জিয়ার জামিন কেন দিতে পারবেন না? বিচারকদের উচিত সুয়োমটো দেয়া। তিনি রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় রাষ্ট্রপতি আপনিও খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা যাতে করা হয় সে ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। আজকেই খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি করেন।

আ. স. ম. আব্দুর রব তাঁর লিখিত বক্তেব্যে বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দন্ডিত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়া সরকারের ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার শিকার। সরকারের উচিত অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ প্রদান করা, এর অন্যথায় বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার জীবন হুমকিতে পড়লে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলূ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। অতিসত্বর খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যেকোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীও যদি অসুস্থ হন তাকে সুচিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তারপর শাস্তি কার্যকর করতে হয়। প্রতিহিংসার রাজনীতি না করে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আহমেদ কামাল বলেন, কালক্ষেপণ না করে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া সুব্যবস্থা করা হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, চিকিৎসার পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেয়াটা অপরাধ। চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে এর দায় সম্পূর্ণই সরকারকে নিতে হবে। রাজনৈতিক বিভেদ বিভাজন ভুলে নাগরিক হিসেবে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার উদ্যোগ নিন।

অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, গত একবছরে ২১ জন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। যখন খালেদা জিয়া কারাগারের অধীনে আছেন তখন চিকিৎসা পাওয়াটা কেবল মৌলিক অধিকারই নয় এটা সরকারের দায়িত্ব তাঁর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। খালেদা জিয়া যদি চিকিৎসার অভাবে মারা যান তাহলে রাজনৈতিক বিভক্তি আরো বাড়বে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তাকে দেশের সক্ষমতা অনুযায়ী সমস্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এখন তাঁর অগ্রসর চিকিৎসা দরকার আর সেটা পৃথিবীর দুটি দেশে হতে পারে। সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বেগম জিয়ার জামিন আটকে দেয়া উচিত হবে না। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাকি বলেন, একজন নাগরিকে চিকিৎনা পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, ফলে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পাওয়ার সুব্যবস্থা যাতে করা হয় তার জন্য আদালত প্রয়োজনে সুয়োমটো অধিকার প্রয়োগ করবেন।

শেয়ার করুন :