‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’-এর বিশেষ বিধান বাতিল কর বাল্যবিবাহ বন্ধের দাবি

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’-এর বিশেষ বিধান বাতিল কর বাল্যবিবাহ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র।

৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ এর বিশেষ বিধান বাতিল কর, বাল্যবিবাহ বন্ধ কর’ এই দাবিতে সমাবেশ করেছে।

সংগঠনের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক নাঈমা খালেদ মনিকা, দপ্তর সম্পাদক তৌফিকা লিজা, ঢাকা নগরের সদস্য নাজমিন আক্তার শারমিন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনার ভয়াবহ পরিণতি নারীদের উপর কি ভয়ংকর প্রভাব ফেলেছে তা গত কয়েকদিনের পত্রিকায় প্রকাশিত বাল্যবিবাহের ঘটনাগুলি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। করোনায় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ৯টি জেলায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাল্যবিবাহ হয়েছে। সারা দেশে তার পরিমান আরো কয়েকগুণ বেশি। এর আগে আমরা দেখেছি করোনাকালে নারী নির্যাতনের হার পূর্বের তুলনায় অনেকগুণ বেড়েছে। অর্থাৎ দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব নারীকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক সমস্ত দিক থেকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। কেন এই পরিস্থিতি? এই রাষ্ট্রে নারী রাষ্ট্রীয়ভাবেই বৈষম্যের শিকার। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ধারক বাহক এই রাষ্ট্র নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে গণ্য করে। এখানে নারীর গৃহস্থালী কাজের কোন স্বীকৃতি নেই, শিশু আইনে ১৮ বছরের নিচে সকল মানব সন্তান শিশু বলা হলেও ২০১৭ সালে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এর বিশেষ বিধানে অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীর বিবাহের বিধান রাখা হয়েছে। সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অনুযায়ি ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ রোধ করবে। কিন্তু বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ অর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা দূর না করে সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮’র নিচে করার জন্য নানাধরণের তালবাহানা করছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে প্রতিটি মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নারী শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পরা বন্ধ করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র দেশের সকল গণতন্ত্রমনা মানুষকে সাাথে নিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে। বক্তারা বাল্যবিবাহ বন্ধসহ নারী পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের উপর নেমে আসা ভয়াবহ সকল রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

 

শেয়ার করুন :