জাতীয় শোক দিবসের বিস্তারিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিস্তারিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়েছে তথ্যবিবরণীর মাধ্যমে।

১৫ আগস্ট ২০২১ রবিবার স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকীতে যথাযথ মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সমগ্র বাংলাদেশ ও প্রবাসে জাতীয় শোক দিবস পালনের উদ্দেশ্যে গৃহীত কর্মসূচিসমূহ হলো :

১৫ আগস্ট রবিবার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ, সশস্ত্রবাহিনী কর্তৃক অনার গার্ড প্রদান এবং মোনাজাত করা হবে।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ তারিখে শাহাদতবরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্য শহীদদের কবরে (ঢাকার বনানীস্থ কবরস্থানে) সকাল সাড়ে ৭টায় পুষ্পস্তবক ও ফুলের পাপড়ি অর্পণ এবং দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করা হবে।
এদিন সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ, সশস্ত্রবাহিনী কর্তৃক অনার গার্ড প্রদান এবং মোনাজাত ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সারা দেশের মসজিদসমূহে বাদ যোহর বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে দিবসটির অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে।
জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/গ্রোথ সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার স্থাপন ও এলইডি বোর্ডের মাধ্যমে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সকল মোবাইল গ্রাহককে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমি বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের অনুরোধের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক বক্তৃতার আয়োজন করবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।
সরকারি-বেসরকারি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙন প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন এবং জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে সরকারি কর্মকর্তাগণের উপস্থিতি আবশ্যিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা পরিষদ ও পৌরসভার অংশগ্রহণসহ দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করবে। জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ১৫ আগস্ট দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ১৫ আগস্ট, বা’দ যোহর দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মমতে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের ঘৃণ্য আঘাতে নির্মমভাবে শহিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহিদ সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি প্রার্থনা করে এই বিশেষ দোয়া-মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব থেকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সকল মানুষের সুরক্ষা, অসুস্থদের দ্রুত আরোগ্য লাভ, মহামারি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।
এ বিষয়ে আবশ্যক স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দেশের সকল মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, মুসুল্লিবৃন্দ ও মসজিদ কমিটি এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে ।

জাতীয় শোক দিবসে পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করার নিয়ম

১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন সমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকালে পতাকাটি প্রথমে সোজাভাবে দণ্ডায়মান পতাকা দণ্ডে রশির সাহায্যে পতাকা দণ্ডের মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর দণ্ডের মাথা থেকে পতাকার প্রস্থের সমান নিচে নামিয়ে পতাকাটি বাঁধতে হবে।
দিনশেষে পতাকাটি নামানোর সময় আবার দণ্ডের মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে এবং তারপর ধীরে ধীরে নামাতে হবে।

পতাকা বিধিতে বলা হয়েছে, পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং সবুজের ভিতরে একটি লাল বৃত্ত থাকবে। জাতীয় পতাকার মাপ হবে 10©x6© দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তাকার ক্ষেত্রের গাঢ় সবুজ রঙের মাঝে লাল বৃত্ত এবং বৃত্তটি পতাকার দের্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধবিশিষ্ট হবে। ভবনে উত্তোলনের জন্য পতাকার তিন ধরনের মাপ হচ্ছে 10©x6©, 5©x3© এবং 2.5©x1.5©।

ছেঁড়া বা বিবর্ণ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। মানসম্মত কাপড়ে যথানিয়মে তৈরি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।

 

শেয়ার করুন :