ডিসিদের ক্ষমতা এমপিদের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, দাবি আন্দালিব পার্থের

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : বাংলাদেশে এখন কোন রাজনীতি নেই বললেই চলে এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপির সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন এমপিরা এখন ইউএনও’র বিরুদ্ধে মিছিল করে, ডিসিদের ক্ষমতা এমপিদের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

সম্প্রতি দ্যা গ্রিন চ্যানেলে সাংবাদিক মনির হায়দারকে দেয়া এক ভার্চুয়াল সাক্ষাতকারে এমনটি বলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক আরও নানা বিষয়ে কথা বলেন পার্থ।

সেই সাক্ষাতাকারের কিছু বিশেষ অংশে আন্দালিব পার্থ বলেন, ‘ রাজনীতি একটা প্রেকটিসের বিষয়, বাংলাদেশে এখন কোন রাজনীতি নেই বললেই চলে। আমরা যখন ২০০৮ সালে এমপি ছিলাম তখন আমরা সংসদে যে কথাগুলো বলতাম, টেলিভিশনে যে কথাগুলো বলতাম সেগুলোতে মানুষ অবাক হতো সরকারের কর্মকান্ডে সবকিছুতে। সরকারের একটা টলারেন্স লেভেল ছিল। কিন্তু গত ২টা দিনে রাতের নির্বাচনে বা সবগুলো ভোটবিহীন নির্বাচনে সরকারের টলারেন্স লেভেল কমে গিয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে যে ঘটনাগুলো এসেছে এখন এমন কিছু বলার নাই বা ইনফরমেশন দেয়ার নাই যাতে জনগন অবাক হবে। এখন যদি বলি কোন কারণে ৫ হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে, এটা খুব একটা বড় ব্যাপার না। এখন যদি বলি বাংলাদেশে দুর্নীতিতে এই হয়েছে বা পুলিশ গুলি করে ১০ জন মেরে ফেলেছে, বাংলাদেশে আমার মনে হয় না এটাতে খুব সারপ্রাইজ হবে।’

পার্থ বলেন, ‘ বাংলাদেশে বর্তমানে আমলারা দেশ চালাচ্ছে। সর্বশেষ ৫ বছরে আমলাতান্ত্রিক উপায়ে দেশ চলতে চলতে আমার মনে হয় রাজনৈতিক চর্চা চলে গেছে। গত ১০ বছরের রাজনীতি পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় রাজনীতিবীদদের গুরুত্ব কমে গেছে। এমপিরা এখন ইউএনও’র বিরুদ্ধে মিছিল করে, ডিসিদের ক্ষমতা এমপিদের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। সবকিছুতে রাজনীতিবীদদের সম্পৃক্ততা অনেকখানি কমে গিয়েছে। রাজনীতিবীদদের কোয়ালিটিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সংসদে যাদের দেখেছেন ইয়াবা বদি, বিচ্ছু সামছু এগুলো নিয়ে পত্রিকাতে যা তা লেখা হয়েছে। এগুলোতে লাভ নেই, প্রতি সময়ই এরকম বিভিন্ন ধরনের ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড বা যাদের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কম, হয়তো আঞ্চলিকভাবে জনপ্রিয়তা আছে। যখন বিপুল পরিমান অর্থের মালিক হয় এবং অনেক বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে, এমপি থাকার কারণে তখন তো ফলোয়ারদের একটা প্রভাব থাকে। আমি জনপ্রিয়তাটা ভোটের ব্যাপারে বলছি না। এক হাজার মটর সাইকেল নামানো, একটা গুন্ডাবাহিনী মেইন্টেইন করা খুব সহজ থাকে। কোন দলেই রাজনৈতিক চর্চা এখন নেই বললেই চলে। ’

তিনি বলেন, ‘ আওয়ামীলীগের ভিত্তিটা অনেক শক্ত কিন্তু আওয়ামীলীগ রাজনীতি না করাতে, বিরোধী দলকে রাস্তায় নামতে না দিতে দিতে বিরোধীদল ইন্টারেস্টেড না রাজপথে নামতে। আগে মিছিল হতো, বিকেল বেলা ধরা নিয়ে যেত, সন্ধ্যায় ছেড়ে দিত, এখনতো ভিডিও করা হয়। অনেকেই জিজ্ঞেস করে, আন্দোলন কেন করে না ? কারণ এই ধরনের সরকারকে আমরা আগে কোন সময় ফেইস করিনি, বাংলাদেশই ফেইস করেনি। যেখানে একটা ক্যাডার বাহিনী থাকবে, সরকার থাকবে, আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ এবং পুলিশ বাহিনী এরা একাকার হয়ে যায় যখন একটা আন্দোলন শুরু হয়। হেলমেট পরে তারা একসাথে মারপিট করে। এরপর গুমের বিষয়ত আছেই। এসব কারণে রাজনৈতিক চর্চা বা পলিটিক্যাল প্রেকটিসটা বাংলাদেশে গত ৭/৮ বছরে এতটা কমে গিয়েছে ; আমরা যারা রাজনীতি করতমা বা রাজনীতি করি বা করার ইচ্ছা পোষন করি আমাদের জন্য রাজনীতির সুযোগ অনেক কমে গেছে। ’

এ বিষয়গুলো ছাড়াও আন্দালিব রাহমান পার্থ হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের বিষয়সহ সাম্প্রতিক  নানা বিষয়ে কথা বলেন ঐ ভার্চুয়াল সাক্ষাতকারে।

সাক্ষাতকারটি দেখতে পারেন ভিডিওতে :

শেয়ার করুন :