ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : স্বাধীনতা দিবসে ‘মানুষ হত্যা’ ও ‘পুলিশি হামলার’ অভিযোগে ২৯ মার্চ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দলটি। মহানগর বিএনপি ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার সংঘর্ষে হতাহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি ২৯ মার্চ ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে এবং ৩০ মার্চ জেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়।

সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলার, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল বাসিত, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান করছেন। এ কারণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জাতীয় প্রেসক্লাব ও তার আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, ভয়াবহ এই সরকারকে সরিয়ে দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। স্পষ্ট ভাষায় আওয়ামী লীগকে বলতে চাই, আপনারা অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। অন্যথায় প্রতিটি বিতর্কিত সরকারকে যেভাবে পদত্যাগ নিতে হয়েছে, আপনাদেরকে একইভাবে বিদায় নিতে হবে।

মির্জা আলমগীর বলেন, এই সরকার স্বাধীনতা দিবসের দিনে, ৫০ বছর পূর্তির দিনে, সারা বাংলাদেশের মাটিতে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। গত তিন দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা এবং চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের যে প্রাণ গেল এর জন্য এই সরকার সম্পূর্ণভাবে দায়ী, এজন্য এই সরকারকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে এবং এই রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। এই সরকার খুব পরিকল্পিতভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশের মানুষের যে আশা ভরসা তা শেষ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই সরকার তার পেটুয়াবাহিনী সহ আওয়ামীলীগ সহ তারা নিরীহ মানুষদের উপর অত্যাচার করেছে, হত্যা করেছে, গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়সহ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলের অনেক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, এইভাবে কখনো একটি দেশ চলতে পারে না।
শেয়ার করুন :