বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫০তম বর্ষ : মানুষের আকাঙ্খার কথা বলার স্বাধীনতা

এস এম হৃদয় রহমান : বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫০তম বর্ষে পদার্পণ করবে ২৬ শে মার্চ ২০২১। মানুষের কাঙ্খিত কথা বলার স্বাধীনতার পথ আজ কতটুকু প্রশস্ত তা স্বাধীনতার ৫০তম বছরে এসেও হিসাব করতে হচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশের আকাঙ্খা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এখন কতদূর? বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা যে কাঙ্খিত দেশের প্রত্যাশায় যুদ্ধ করেছিলেন তাদের সেই দেশটা এখন কেমন? অনেক অপ্রাপ্তি তাদের মনকে গ্রাস করে প্রতিনিয়ত। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কারা সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এখনও!

বাংলাদেশের স্বাধীন ভূখন্ড থাকলেও প্রকৃত যে স্বাধীনতার স্বাদ তা বিনষ্ট হয় বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েকটি ঘটনায়। বাংলাদেশে পর পর দুজন রাষ্ট্রপতিকে খুন হতে হয় সামরিক বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে। সেই সামরিক অভ্যুত্থানগুলোর সময়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে খুন হন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক মন্ত্রীও। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর গণতন্ত্রকে কয়েকবার হত্যা করা হয় এবং বিভিন্ন সরকারের সময় গণতন্ত্র হোচট খায়। হোচট খাওয়া গণতন্ত্রের গল্প এখনও শেষ হয়নি। গণতন্ত্র কি ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে ? স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বিশ্ববাসী। যে বাংলাদেশকে এক সময় বলা হয়েছিল তলাবিহীন ঝুড়ি, সে বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি নয় তা বাংলাদেশ প্রমাণ করে যাচ্ছে।

প্রতিদিন খবর কাগজের পাতা উল্টালে এবং বিশ্লেষণ করলে নানা অপ্রাপ্তি, নানা অভিযোগ, নানা মানুষের নানান মতামত চোখে পড়ে। সরকারি দল, বিরোধী দল একেক দলের মতামত একেক রকম এই দেশকে নিয়ে। সরকারি দল বলে কথা বলার স্বাধীনতা আছে, তো বিরোধী দলগুলো বলে কথা বলার স্বাধীনতা নেই। সরকারি দল বলে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশে গণতন্ত্র আছে, তো বিরোধীদলগুলো বলে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র এবং কথা বলার স্বাধীনতা সত্যিই কি আছে ? অনেকে আবার মনে করেন রাজনীতিবীদদের অসহিষ্ণু আচরনের কারণে দেশে রাজনীতি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে দেশে রাজনীতিও একের পর এক হোচট খেয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গাগুলো নিয়ে যে বুদ্ধিজীবীরা কাজ করছেন তারাসহ দেশের বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন বাংলাদেশে রাজনীতি ব্যর্থ হয়েছে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়।

লেখক- ফ্রিল্যান্স সংবাদকর্মী।

 

শেয়ার করুন :