মওলানা ভাসানী জাতির অস্তিত্বের সোপান

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে যদি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষন করলে প্রমান হয় মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীই প্রথম তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্বায়ত্তশাসন, এমনকি স্বাধীনতার স্বপ্নে জাতিকে উজ্জিবিত করেছে। মওলানা ভাসানী বাঙালি জাতির অস্তিত্বের সোপান।

২১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী যুগে যুগে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। আমাদের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির ওপর চলছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরবচ্ছিন্ন আগ্রাসন। তাই প্রতি মুহূর্তে আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এ দেশীয় প্রতিভূদের রুখতে মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথই জাতির পাথেয়।

তিনি আরো বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন আফ্রো-এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কন্ঠস্বর। তিনি ছিলেন বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে উচ্চকিত কন্ঠ। মওলানা ভাসানী মজলুমের বন্ধু, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ এবং অত্যাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক সোচ্চার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে পুন্ড্রু ইউনিভারসিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ বলেন, মওলানা ভাসানী স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্দ্রষ্টা। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট, ১৯৫৮ স্বৈরাচার বিরোধী এজন, ১৯৭০’র নির্বাচন, ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ সকল ক্ষেত্রেই মওলানা ভাসানীর অবদান ছিল। আজ তার মত দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব আজ বড়ই প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীরমত দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব আজ বড্ড অভাব। তার আদর্শের ভিত্তিতে, তার প্রদর্শিত সংগ্রামের পথ ধরেই আজ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী ফারুক বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনীতির প্রবাদপুরুষ। বৃটিশ বিরোধী আজাদী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান সমগ্র জাতির কাছে শ্রদ্ধার নায়ক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। মওলানা ভাসানী সকল সময় মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষে সংগ্রাম করেছে। তার পথ ধরেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজকের বাংলাদেশ।

সভাপতির বক্তব্যে মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কল্পনা করা যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করতে হলে মওলানা ভাসানীকে বাদ দেয়া যাবে না।

 

শেয়ার করুন :