আবাসিক হলগুলো খুলে দিয়ে পরীক্ষার দাবি ইডেন কলেজ ছাত্র ফ্রন্টের

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : আবাসিক হলগুলো খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে পরীক্ষা নেয়া, অবিলম্বে সকল শিক্ষার্থীদের বেতন ফি মওকুফ করা, শিক্ষাবিদ ও স্বাস্থ্যবিদদের নিয়ে সভা করে কলেজগুলো খোলার রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখা।

৩১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি সায়মা আফরোজ ও সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার সুমি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ কলেজের অধ্যক্ষদের সর্বশেষ এক সভায় বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাতে দেখা যায় যে, করোনা পরিস্থিতিতে হঠাৎ লকডাউন হওয়ায় যে সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আটকে গিয়েছিল তড়িঘড়ি করে সেসকল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত ৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাস্টার্স শুরু হবে আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে এবং অন্য ২টি স্থগিত পরীক্ষা ২/৩ দিন পর থেকে আরম্ভ হবে। অন্যদিকে অনার্স ৪র্থ বর্ষের ২০১৯ (২০১৫-১৬) পরীক্ষা শুরু হবে ২৫ জানুয়ারি থেকে। জাবি’র পুরোনো শিক্ষার্থীদের অনার্স ২য় বর্ষ স্পেশাল পরীক্ষা (যারা ফরম ফিলাপ শেষ করেছে) তাদের পরীক্ষা দ্রুত শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। ডিগ্রি (পাস) ৩য় বর্ষের – ২০১৮ (২০১৫-১৬) পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির ১ম সপ্তাহে শুরু হবে। এই পরীক্ষার ফরম ফিলাপ শুরু হবে ২৮ ডিসেম্বর থেকে, চলবে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। অনার্স ৩য় বর্ষের ২০১৯ (২০১৬-১৭) পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ২৭ ডিসেম্বর থেকে এই পরীক্ষার ফরম ফিলাপ শুরু হয়ে চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। মাস্টার্স শেষ পর্বের ২০১৮ (২০১৭-১৮) পরীক্ষা শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। এই পরীক্ষার ফরম ফিলাপ শুরু হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি শেষ হবে ৩০ জানুয়ারি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে অবস্থান করছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের ঢাকায় আসতে হবে, অবস্থান করতে হবে। কিন্তু প্রশাসন হল খুলে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে পরিস্কার কিছু বলে নি। তাহলে তারা থাকবে কোথায়? কীভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে? এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর প্রশাসনের দিক থেকে আমরা পাইনি।

তারা বলেন, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে। অনেকে টিউশন করে নিজের খরচ নির্বাহ করতো। সেই বাস্তবতাও এ পরিস্থিতিতে নেই। ফলে অনেকের পক্ষে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কিংবা মেসে থাকাও সম্ভব না। এরকম পরিস্থিতিতে হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহনের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলেই আমরা মনে করি। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে হল খুলে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো কিছু বিষয় তুলে ধরে তারা বলেন, পুরো করোনাকালে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল ও অসঙ্গতিপূর্ণ উপায়ে অনলাইন ক্লাসগুলো নেওয়া হয়েছে এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নেটওয়ার্ক ও ডিভাইসজনিত সমস্যার কারণে অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি। আর ক্লাস করতে পারলেও বিষয়বস্তু পরিষ্কারভাবে বুঝতে সক্ষম হয়নি। বেশিরভাগ বিভাগেই পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয়নি বা করলেও তা তড়িঘড়ি করে সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনেও ইনকোর্স ও প্রিটেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের সংকটে ফেলেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এই মহামারীর পরিস্থিতিতে দরকার প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বিবেচনায় নেওয়া। আশা করি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রশাসন শিক্ষাবিদ ও স্বাস্থ্যবিদদের নিয়ে সভা করে কলেজগুলো খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।

 

শেয়ার করুন :