ঘুণে খাওয়া সম্পর্ক বহনের থেকে ‘না’ বলাই শ্রেয়

-ইয়ারা যোহারীন

সম্পর্ক নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা জীবনকে কষ্টদায়ক করে তুলে মানসিক অশান্তি নষ্ট করে দেয় সব সম্ভাবনা, সম্পর্কে ভাঙ্গনের প্রভাব অনেকে আজীবন বয়ে বেড়িয়ে নষ্ট করে ভবিষ্যতকে;
আবেগের সাথে সাথে নিজ বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করে সুখী হতে হবে জীবনে; জীবন একটা যেটা নিয়ে কোন রিস্ক নেওয়াই কাম্য নয়; আমাদের সময়ের সাথে সামনে এগিয়ে যাবার কথা কিন্তু অনেকেই প্রাক্তনকে ফিরে পাবার আশায় নিজের জীবনকে থামিয়ে রাখেন;

Let it Go , Move On মটিভেশনে আমরা এসব নিয়েই কথা বলি
যে সম্পর্ক একবার শেষ হয়ে যায় তাকে শত চেষ্টা করেও ফিরে পাওয়া যায় না, পুরাতন সম্পর্ক ফেরত পাবার আশা আর মরিচীকার পেছনে ছুটা একই ;

প্রত্যেকটা ব্রেকাপের একটা যুক্তি যুক্ত কারন থাকে, বর্তমানে ইগো, একে অপরকে ইর্ষা, বিশ্বাস ও আস্হার অভাবে সম্পর্কচুত্য হয় বেশি, সঙ্গী একে অপরের যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান, আর কিছু যোগ্যতার মাপকাঠিতে বসিয়ে নিজেদের নিয়ে হতাশ জীবন যাপন করে ; এক্ষেত্রে পুরুষ কতটা প্রফেশনাল ক্ষেত্রে সার্থক এবং নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্য কতটা সেদিকে ফোকাস বেশি থাকে
মন মানসিকতা আচরন বোঝাপড়া এসব দেখে আজকাল সম্পর্ক হচ্ছে না

যেহেতু দুপক্ষেরই এসব যোগ্যতা স্হায়ী কিছু নয় সেহেতু কিছুদিন পরই আরেকটু ভাল কাউকে পেয়ে জবের মত ই সম্পর্কে সুইচ করে ফেলছে বেশিরভাগ কাপলরা;
সাকসেসফুল প্রথম প্রেমের সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে এ সংখ্যাটা এখন খুব কম, ৪ বা ৫ নয় ব্রেকাপের সংখ্যা ৫০ এর উপরেও আছে অনেকের এ ধারাবাহিকতায় সঙ্গীর উপর সম্মানবোধ কমে যায়, ছেলেরা এক তরফা বলে নেয় মেয়েরা এমন ই হয় , মেয়েরাও ছেলেদের মিথ্যাবাদী ভাবতে থাকে
এতে করে দিনের পর দিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমাজে এক অবিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠা সম্পর্ক গুলো কেবল সম্পর্কের খাতিরে সম্পর্ক হিসেবে থাকে।

সম্পর্কের মূলে পারস্পারিক বোঝাপড়া , আস্হা , ভালবাসা ও সহমর্মিতাবোধ থাকে না, বর্তমানের সবচেয়ে ভালবাসার মানুষ দ্রুতই পরিনত হ সবচে কাছের ভয়ংকর শত্রুতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একে অপরের ক্ষতি করার ই চেষ্টা করে ,খুব কম ক্ষেত্রে তারা ভাল বন্ধু হিসেবে থাকে তবে সুযোগ পেলে যেন সাপের মতই ছোবল মারতে ভুলে না ;

প্রতিপক্ষ না হয়ে জীবনকে সুন্দর করাই যেত;
ভাল কিছু করার সম্ভাবনা সকল মানুষের মধ্যেই থাকে
সঙ্গী অনুপ্রেরনা জোগালে একটু মটিভেট করলে মানুষ আরও ভাল করে; স্বভাবতই বাংলাদেশের মানুষ আবেগপ্রবন একে অপরের সান্নিধ্যের চাহিদা থাকে তাই নিজের কাজে সঙ্গীর পরামর্শ কিংবা অনুপ্রেরনা সফলতা এনে দেয়
প্রাক্তনদের ক্ষেত্রে যে বিষয়টা হয়ে থাকে তাদের পারস্পারিক দ্বন্দ্ব তারা পুষে রাখে সবসময় , কোন কাজে সাহায্যে অনেকেই প্রাক্তনের সহযোগিতা চায় সে সময় টা সদব্যবহার করে অনেক প্রাক্তনই আত্মবিশ্বাসকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেবার জন্য অনেক সময়ই প্রাক্তনের কিছু কথা ই যথেষ্ট।

যে বিগত সময়ে আপনাকে বিশ্বাস করে নি, মূল্যায়ন করেনি ২,৪, ৬,১২ বছর পর এসে সে আপনাকে বাহবা দিবে গ্রহন করবে সেটা ভাবা বন্ধ করুন; পেশাগত বা পড়াশুনার কারনে যদি প্রাক্তনের কোন সহযোগিতার একান্তই প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে তাকে শুরুতে বিষয়টা পরিস্কার বলে নিন যে পেশাগত সহযোগিতার জন্য সাহায্য চাইছেন যেটা অন্যের কাছে চাইতে পারছেন না এর মানে এই নয় আপনি সময়ের সুযোগ নিয়ে তার জীবনে ফেরার বা তাকে ইমপ্রেস করার জন্য কাজ করছেন ,
নিজের জন্য কাজ করছেন সেটা জানিয়ে দিন;

চলে যাওয়া দিন কখনো ফেরত আসে না , ঘৃনাবশত বন্ধনহীন হলে সে বন্ধনকে জোড়া লাগানো কঠিন; আপনার তিক্ত অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তাকে নিয়ে শেয়ার করা অন্যের কাছ থেকে তার সম্পর্কে নেগেটিভ কথা শোনা সবমিলিয়ে আপনি ইতোমধ্যে একটা নেগেটিভ ভাবনাতেই আছেন।

হঠাৎ প্রাক্তনের আবির্ভাবে অতি উচ্ছ্বসিত হয়ে আপনি হয়তো ফেরার চেষ্টা করবেন তবে সেক্ষেত্রে আবারও ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি প্রাক্তন সুযোগ পেলে প্রশংসার বদলে অপমান করতেই ভালবাসবে অথচ কিছু সুন্দর সুখ স্মৃতি দুজনেরই আছে ; জীবনে সামনে এগোতে চাইলে তাই নতুন করেই ভাবুন পেছনের সব ছোট বড় অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ন ডিলিট করে; ডিলিট করে রিসাইকেল বিনেও রাখবেন না মানে আপনার স্মৃতিতে খারাপ সময়টাকে একদমই স্থান দিবেন না, পুড়িয়ে দেওয়া আবর্জনার ছাইয়ের মত উড়িয়ে দিতে হবে নিজে মেঘমুক্ত আকাশে উড়তে চাইলে;

প্রথমে নিজেকে ক্ষমা করুন এবং তাকে ক্ষমা করে ভুলে যান ;
তার স্মৃতি সামনে এলে সাথে সাথে অন্য চিন্তা করুন, নতুন কিছু করুন নতুন কিছুতে আগ্রহ তৈরি করুন মানুষের আবেগ ব্রেন মন যেন আজকাল নিজের ব্যবহার করা এনড্রয়েড মোবাইলের মতই আপডেট করতে হচ্ছে সময়ের সাথে ;

তবে নিজেকে তুলনা করা যাবে না অন্যের সাথে ক্লাসে সবার রুল ১ হয় না , যে কাজটা করবেন সেটা মন থেকে ভাল করে করলেই প্রশান্তি আসে , পরিবর্তন হোক পজেটিভ পছন্দনুযায়ী জোরপূর্বক নয় মানুষ তার বেসিক কিছু বৈশিষ্ট্যকে টপকে যেতে পারে না উদাহরন স্বরূপ আপনার আচরনও ফ্যাশন সেন্সের সাথে আপনার পরিবারের পরিবেশ সমাজের প্রভাব আছে হুট করে আপনি নিজের আমূল পরিবর্তন আনতে পারবেন না ,

আপনি যা কিংবা যেমন নন জোড় করে মনের বিরুদ্ধে তা হতে যাবেন না, মেকি নয় মানুষের সত্যিকারের রূপটাই তার শক্তি; পান্জাবী পাজামা পরলে একটা ছেলে ব্যাকডেটেড বা হিমু হয়ে যায় না , মেকাপ না করলে দামী পোশাক না পড়লে একটা মেয়ে অসুন্দর হয়ে যায় না এসব ই বোঝার বিষয় ; খুব ছোট ছোট ব্যাপারে নজর না দিয়ে, ভীতে নজর না দিয়ে বাইরের চাকচিক্যে নিজেকে মোহিত করলে হেরে যেতে হবে সব ক্ষেত্রে ; আকর্ষনের অন্যতম দিক ব্যক্তিত্ব হওয়া জরুরী; সবকিছুর আগে ব্যক্তিত্ব কে শানিত করা চাই ;

অন্য কারো জন্য নয় সম্পূর্ন নিজের জন্য নিজেকে তৈরী করতে হয় মানুষের নিজেকে এবং নিজেই তখন মেনটরের ভূমিকা পালন করতে হয় ; মনে রাখা জরুরী আপনার জীবনে সব কিছুর উর্ধে আপনি নিজে, তাই নিজেকে ভালোবাসুন নিজের মন এর যত্ন নিন; ভেতরে বাহিরে সদা প্রানবন্ত থাকুন সত্যিকারের প্রফুল্ল মনে সামনে হাটুন এ হাঁটা থামবে না দৌড়ে চলবে উড়বে আনন্দে
বেঁচে থাকার এ জীবনটাকে আনন্দে রাখুন বিশ্বাস করুন নিজেকে আপনি যা চান সবই আপনার মাঝে আছে
প্রতিযোগিতার জগত নয় আপনি বাঁচবেন আপনার জগতে মানুষকে ভালবেসে। ফোকাস করুন মানসিক শান্তিতে , সাফল্যকে লক্ষ্য না রেখে লক্ষ্য হোক আত্মতৃপ্তি;

ইয়ারা যোহারীন
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,
নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামভিত্তিক অনুপ্রেরনামূলক কার্যক্রম
ইনভিশন একশন রিওয়ার্ড এসেট (ইয়ারা )

শেয়ার করুন :