যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মনির জন্মবার্ষিকী আজ

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর অন্যতম অধিনায়ক ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির জন্মবার্ষিকী আজ ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার।

১৯৩৯ সালে ৪ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহাসিক শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মরহুম শেখ নূরুল হক বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি। মা শেখ আছিয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর বড় বোন। শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ বর্তমানে যুবলীগের চেয়ারম্যান এবং ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র।

শেখ মনির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী যুবলীগ দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচিতে রয়েছে আজ সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহিদ শেখ ফজলুল হক মনিসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত সব শহিদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ, দোয়া ও মোনাজাত। পরে দুস্থদের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে। দুপুর আড়াইটায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। সভাপতিত্ব করবেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামীকাল শনিবার ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হল, উত্তরা রাজলক্ষ্মীর সামনে, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর, ভাটারা নতুন বাজার এলাকা, ভিক্টোরিয়া পার্ক, যাত্রাবাড়ী গোল চত্বর, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এবং কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় জনগণের মধ্যে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৭২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির সূচনা করেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সঙ্গে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী বেগম আরজু মনিও শাহাদত বরণ করেন। শেখ মনি ১৯৬০ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। কেবল রাজনীতিতে নয়, সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায়ও তিনি অবদান রাখেন। তার ‘অবাঞ্ছিতা’ উপন্যাস পাঠক সমাদৃত। দৈনিক বাংলার বাণী, ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস ও বিনোদন ম্যাগাজিন ‘সিনেমা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ষাটের দশকে সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি গ্রেফতার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন। ১৯৬৪ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তত্কালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের কাছ থেকে সনদ নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে সমাবর্তন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলায় জিতে ডিগ্রি ফিরে পান। তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ও কৃতিত্ব ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফার পক্ষে হরতাল সফল করে তোলা। শেখ মনি ছিলেন ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের কর্মসূচি প্রণয়নের অন্যতম প্রণেতা।

 

শেয়ার করুন :