মওলানা ভাসানীর দিশায় স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে হবে

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২০ নভেম্বর জাতীয় জাদুঘরের সামনে মওলানা ভাসানী স্মরণে গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য এ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম, সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর, গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য শ্রমিক নেতা তাসলিমা আখ্তার প্রমুখ।

জোনায়েদ সাকি তার সভাপতির বক্তব্যে মওলানার সংগ্রামমুখর জীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, ভাসানীর সংগ্রাম আজও আমাদের জন্য সমান প্রাসঙ্গিক। ভাসানীর রাজনীতিই আমাদের রাজনীতি। আজকে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে ভাসানীর দেখানো পথেই আমাদের অগ্রসর হতে হবে। ভাসানী কৃষকের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছেন, শ্রমিক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পশ্চিম পাকিস্তানকে আসসালামুআলাইকুম জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাধীন বাংলাদেশেও জনগণের মতামত না নিয়ে যখন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে, যখন মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়েছে, ভাসানী তার বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে গণমানুষের প্রতিবাদকে ভাষা দিয়েছেন। এমনকি জীবনের শেষ পর্বে ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা লংমার্চের আয়োজন করে তিনি প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার আন্দোলনের দিশা দেখিয়েছেন। মওলানা ভাসানীর দিশায় আজকে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের পতন ঘটতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মওলানা কেবল ‘খামোশ’ শ্লোগান উচ্চারণ করেননি, তিনি জাগতেও বলেছেন, বলেছেন ‘জাগো-জাগো’, দেশবাসীকে তিনি জাগতেও বলেছেন। জুলুমের বিরুদ্ধে তিনি জাগিয়েছেন, অপশাসনের বিরুদ্ধে জাগিয়েছেন, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে জাগতে বলেছেন। আমাদের ভয় পেলে চলবে না, আজকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদের জাগতে হবে, জাগতে হবে ভাসানীর আদর্শেই।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মওলানা চিরকাল মানুষের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছেন, মওলানার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আজকে বাংলাদেশের সবগুলো রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন গণমানুষের ঐক্যের প্রতীক। শাসকরা আাদের ভাগ করতে চায়, মওলানার আদর্শে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য এ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম বলেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নির্যাতন আজ সকল সীমা অতিক্রম করেছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে মিলেই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক বাম জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ আজ মওলানাকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। মওলানার আদর্শের বিপরীতে তারা অবস্থান নিয়েছে।

সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সব চাইতে বেশি কাজ করেছে আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধের সবগুলো মূলনীতি তারা ভূলুণ্ঠিত করেছে।

গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল মওলানার জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার রক্ষায় মওলানা আন্দোলন করে গেছেন।

গণসংহতি রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও শ্রমিক নেতা তাসলিমা আখ্তার বলেন, মওলানা ছিলেন এদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। তার দেখানো পথেই আজও বাংলাদেশের কৃষক ও শ্রমিকরা জুলুমের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জুলহাসনাইন বাবু।

মওলানার বিখ্যাত কিছু ঐতিহাসিক বাণী এবং সমকালীন রাজনীতি নিয়ে নানান শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন ও ব্যানার দিয়ে মঞ্চকে সুসজ্জিত করা হয়। দুপুর থেকেই গণসংহতি আন্দোলনের বিভিন্ন শাখার নেতা ও কর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। সমাবেশের সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করেও উপস্থিত জনতা বক্তাদের বক্তব্য শোনেন। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শাহবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

 

শেয়ার করুন :