প্রবাসী নারী শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে প্রতিবাদ

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রবাসী নারী শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। বিবৃতিতে গণমাধ্যমকে এমনটি জানানো হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সৌদি আরবের মদিনায় নিহত নদীর বাবা দুলাল শেখ সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তৌফিকা লিজা, ঢাকা নগরের সংগঠক নওশিন মুশতারী সাথী ও নাজনীন আক্তার শারমিন।

বক্তারা বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৯ লক্ষের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছে। তারমধ্যে ২০১৯ সালে প্রায় ৩ হাজার নারী নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছে। গত ৫ বছরে লাশ হয়ে ফিরেছে ৪৭৩ জন নারী। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা অর্থনৈতিক বৈষম্যের পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, সহিংসতা, বর্বরতার শিকার হচ্ছে। বছরের পর বছর নানা শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে আমাদের সামনে আসলেও কর্তা ব্যক্তিরা যথাযথ আইনী উদ্যোগ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করে দায়িত্বহীন আচরণই প্রকাশ করেছেন। ২০১৯ সালে ৫৩ জন নারী শ্রমিকের মৃতদেহ দেশে আসা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ‘সৌদিতে কর্মরত ২ লক্ষ ২০ হাজার নারী শ্রমিকের মধ্যে এই সংখ্যা তেমন কিছু নয়।’ অথচ এই শ্রমিকদের শ্রম-ঘাম-সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। করোনাকালীন এই দুর্যোগের সময়েও বৈদেশিক আয়ে শ্রমিকদের ভুমিকা সবাই জানে। অথচ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ থাকলেও তার কার্যকর ভূমিকা জনগণ জানে না।

বক্তাগণ আরো বলেন, নামমাত্র খরচে নারী শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর কথা বলা হলেও দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী এই শ্রমিকরা সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে যায়। সেখানে নানা নির্যাতনের পর খালিহাতে অসুস্থ শরীর অথবা লাশ হয়ে তারা দেশে ফেরে। দেশে ফিরেও তারা সামাজিকভাবে নিগৃহীত হয়। চরম মানসিক চাপে তারা আধমরা হয়ে বেঁচে থাকে। দেশে সকল কর্মক্ষম মানুষের জন্য কাজের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের থাকলেও সরকার তা করছে না। বরং যারা দেশের বাইরে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে দেশের জন্য মুদ্রা পাঠাচ্ছে তাদের জন্য সরকারের কোন প্রকার ব্যবস্থা নেই।

প্রবাসী শ্রমিক নদীর বাবা দুলাল শেখ বলেন নদীকে ফোনে না পেয়ে তারা যখন পাগলের মত মেয়ের খোঁজ করছিল তখন মালিকের ছেলে, সেখানকার রিক্রুটিং এজেন্সী কিংবা বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সী নানা তালবাহানার পর জানায় নদী আত্মহত্যা করেছে। পরবর্তীতে নদীর লাশ পেলেও তার বেতনের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বকেয়া আছে। মেয়ের লাশে অনেকগুলো মারের দাগ ছিল। নদীর বাবা মা মনে করেন তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সী কোন প্রকার সহযোগিতা করেনি। নদীর বাবা অবিলম্বে তার মেয়ে খুনিদের শাস্তি এবং তার পাওনা টাকা ফেরত চান।

বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র অবিলম্বে বিদেশে ঘটে যাওয়া সকল নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির কুটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছে। বিদেশে নারী শ্রমিকরা যতদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা পাবে না ততদিন পর্যন্ত নারী শ্রমিক প্রেরণ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় দেশের সচেতন মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

শেয়ার করুন :