খুলে দেয়া হলো সুন্দরবন

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রায় সাড়ে ৭ মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন‌্য অবশেষে উন্মুক্ত হলো বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে দর্শনার্থী ও পর্যটকরা সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে পারবেন।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা ভিড় করছেন মোংলার পিকনিক কর্নারে।

সেখান থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৌযানে করে তারা যাচ্ছেন সুন্দরবন ভ্রমণে। সকালে সর্বপ্রথম মংলা থেকে ৮ জন যাত্রী নিয়ে কটকার পথে রওনা দেয় ‘আলোর কোল’ নামের একটি লঞ্চ। তারা আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবন ভ্রমণে থাকবেন। এর আগে লঞ্চটি বনবিভাগ থেকে অনুমতি নিয়েছে।

এছাড়া সুন্দরবনের করমজলে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় প্রথম দিনেই। কারণ করমজল পয়েন্ট‌টি সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছাকাছি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। করমজল ছাড়াও পর্যটকরা হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা, কচিখালী, সুপতি ও দুবলাসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনার্থী ও পর্যটকরা সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে পারবেন বন‌বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচটি শর্তে ফের সুন্দরবন ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- কোনও ট্রলারে ২০ জনের বেশি পর্যটক নেওয়া যাবে না, পর্যটকরা খাবার ছাড়া অন্য কোনও পণ্য নিতে পারবেন না, প্রতিটি ট্রলার ও জাহাজে পর্যটকদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি রাখা আবশ্যক, কোনও ট্রলার ও জাহাজে মাইক অথবা সাউন্ড বক্স বাজানো নিষেধ।

ট্যুর অপারেটর বাংলাদেশ এক্সপেডিশনসের আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আলোর কোল লঞ্চের ধারণক্ষমতা ৮ জন। তাই আটজনের বেশি পর্যটক নেওয়া হয়নি। লঞ্চটি করমজল, হাড়বাড়িয়া, কটকা ও কচিখালী ভ্রমণ করবে। চলমান করোনা সংকটের কারণে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ন‌্যায় সুন্দরবনেও দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত মাস বন্ধ ছিল পর্যটক প্রবেশ।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবু নাসের বলেন, ভ্রমণের জন্য সুন্দরবন খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে পর্যটকরা বনে প্রবেশ করতে পারবেন। গত ২৯ অক্টোবর ট্যুর অপারেটরদের সাথে সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানা‌ে হয়। তবে একটি জাহাজে ৫০ জনের বেশি যাত্রী বহনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন :