ভোলায় ধর্ষণ চেষ্টাকারীর পুরুষাঙ্গ কর্তন করলেন এক গৃহবধূ

আকাশছোঁয়া ডেস্ক : ভোলার চরফ্যাশনে ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচতে গৃহবধূ হাতের পাশে পাওয়া ব্লেড দিয়ে লম্পটের পুরুষাঙ্গ কর্তন করেছে বলে স্বীকার করেছেন। গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা করলে তিনি বাধ্য হয়ে এ ঘটনা ঘটান। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

লম্পটের নাম মোহাম্মদ নঈম (৩৫)। তার বাড়ি উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাসানচর গ্রামে। তার পিতার নাম আজম আলী সরদার। নঈম পেশায় ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক।

এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নঈম বলছে- তাকে ডেকে নিয়ে পুরুষাঙ্গ কর্তন করা হয়েছে। আর গৃহবধূ বলছে- ধর্ষণচেষ্টা করলে বাঁচার তাগিদে ব্লেড চালিয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা শোভন কুমার বসাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নঈমকে রাত ২টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরে বরিশাল রেফার করা হয়েছে।

ওই গৃহবধূ জানান, তার স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার দুই ছেলে। গৃহবধূ পাশাপাশি নকশিকাঁথা তৈরি করে বিক্রি করেন। মোহাম্মদ নঈম তাকে প্রায় আড়াই মাস ধরে মোবাইল ফোনে ও সরাসরি কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে স্বামীর কান ভারি করে সংসারে কলহ সৃষ্টি করছে।

তিনি জানান, রোববার রাতে কৌশলে ঘরে ঢুকে নঈম তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তিনি বাঁচার জন্য হাতের কাছে রাখা সেলাইয়ের বাক্স থেকে ব্লেড বের করে এলোপাতাড়ি চালান। এ সময় নঈমের পুরুষাঙ্গ কেটে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে নঈমকে প্রথমে থানায় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য এমদাদুল হক মিঠু বলেন, নঈম এলাকায় চিহ্নিত লম্পট হিসেবে পরিচিত। নারীদের শ্লীলতাহানির দায়ে বিচারে কয়েকবার তার মোটা টাকা জরিমানা হয়েছে। তবে গত রোববার রাতের ঘটনায় নঈমকে নাকি ফাঁসানো হয়েছে।

উপজেলার শশীভূষণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নঈম ও গৃহবধূর কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নঈম বলছে- তাকে ডেকে নিয়ে পুরুষাঙ্গ কর্তন করা হয়েছে। আর গৃহবধূ বলছে- ধর্ষণচেষ্টা করলে বাঁচার তাগিদে ব্লেড চালিয়েছে।

 

শেয়ার করুন :