লোক দেখানো কোরবানীর তালিকা এখন ভীষণ ভারী: সাজিয়া আফরিন

করোনাকালে কোরবানি নিয়ে সবাই দিধাদ্বন্দে। এবারের কোরবানি একদমই আলাদা। করোনা সব পরিস্থিতি বিগড়ে দিয়েছে। যাদের সাধ্য ছিল এবার হয়তো নেই! সংসারের ব্যয় বহন করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। রাজধানী প্রায় খালি কারণ কাজ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ।

কিন্তু যাদের সামর্থ্য আছে, প্রতিবছর যারা ৫-৬ কোরবানি দেয় তারা এবার মানবিক হলে অনেক পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে। ২ টি কমিয়ে কোরবানি দিয়ে ৫-৬ টি পরিবারকে সহযোগিতা করলে সেই ত্যাগের মহাত্ম বহুগুন বৃদ্ধি পাবে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে ভাবা উচিত। সামর্থবান মানুষের মানবিক দৃষ্টিকোন জাগ্রত না হলে করোনাকাল পাড়ি দেওয়া খুব কষ্টসাধ্য।

আমরা পশু কেনার প্রতিযোগিতায় নামি। কে কত বড় কত দামি গরু কিনলাম তার প্রচারে নেমে কেবলমাত্র দাম্ভিকতা প্রকাশ করি। কোরবানির গরু কিনে হারজিত হিসাব করাটা কি খুবই জরুরি? আল্লাহর নামে কোরবানি দেব। বাজারদর অনুযায়ী সামর্থ্য বুঝে একটা হালাল পশু কিনলেই তো হলো। তা নিয়ে জিতেছি বা ঠকেছি চিন্তায় হয়রান হয়ে লাভ কি!

কোরবানির মধ্যেও আছে রাজনীতি। অনেক রাজনৈতিক নেতাকেই দেখা যায় সারা বছর এলাকায় যাওয়ার নাম গন্ধ নেই, এলাকাবাসীর ভালো মন্দ দেখভালের বেলায় উদাসীন। এলাকার মানুষের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সরকারি অর্থ লোপাট করে, জনগণের টাকা মেরে সেই টাকায় অনেক সংখ্যক গরু কিনে কোরবানি দেন। এলাকার মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করেন। উদ্দেশ্য থাকে নাম ছড়িয়ে নেতা বনে যাওয়া। এটাকে কি কোরবানি বলা চলে? আল্লাহর নামে সৎভাবে উৎসর্গ করার চেয়েও যেখানে ধান্দা থাকে অন্য কিছু প্রাপ্তির, তা কি আর কোরবানি হয়!

হার জিতের হিসাব কষতে অনেকে নামেন ফেসবুকে। জবাইকৃত গরু-ছাগলের রক্তাক্ত ছবি পোস্ট করেন। যারা এটা করেন তাদের মনে রাখা দরকার, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে সব ধর্ম-বর্ণের-বয়সের মানুষের বিচরণ। রক্তাক্ত পশু, মাংসের ছবি পোস্ট করে সাফল্যের খেতাব হয়তো পেয়ে যান অবান্তর মতামতের মাধ্যমে। এতে সাধারণের কোন লাভ হয় না। তাই করোনাকালে এসব হাস্যকর গল্পের জন্ম না দিয়ে অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি গুরুত্ব বহণ করবে।

শেয়ার করুন :